‘রেড ওশ্যান স্ট্র্যাটেজি’ নিয়ে একটা আলাপ করেছিলাম না? এইযে আতর আর পার্ফিউমের দাম এখন থেকে বাড়বে, সেটা হচ্ছে এই ‘রেড ওশ্যান স্ট্র্যাটেজির’ বুমেরাং এফেক্ট। কারণ সরকার যখন বাজেট বানাচ্ছে তখন সরকার দেখছে যে এটা ব্লুমিং মার্কেট, কারণ প্রচুর পার্ফিউম অয়েল বা ফ্ল্যাঙ্কার কিংবা মিডেল ইস্টার্ণ কিন্তু দেশে ঢুকছে, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের তুলনায় পার্ফিউম ইম্পোর্ট ২৫-২৬ এ বেড়েছে ৫৭% বেশি। ‘ফিফটি সেভেন পার্সেন্ট’ ক্যান ইউ ইমাজিন? গভমেন্ট এই পার্সেন্টেজটাকেই এখন বাজেটে ইনক্লুড করেছে লাক্সারি প্রোডাক্ট হিসেবে৷
.
কিন্তু ম্যাক্সিমাম পার্ফিউম কিন্তু আসছে হাতে হাতে ক্যারি করার মাধ্যমে, লাগেজে করে বা কোনোভাবে ফাঁকি দিয়ে, সেই জিনিসটা এখন সমন্বয় হবে আপনাদের পকেট থেকে এক্সট্রা টাকা দেয়ার মাধ্যমে৷ অনেকেরই সখ কুরবানি দেয়ার টাইম চলে এসেছে। বুঝে হোক না বুঝে হোক, দুনিয়ার সবাই একযোগে ঝাপিয়ে পড়েছে এই ব্যবসায়, আতর আর ইথানল মিশিয়ে একেকজন হয়ে যাচ্ছে পার্ফিউমার, আর সেই ফেইক মার্কেটের মাশুল গুনবে সবাই৷ কারণ মার্কেট থেকে কিন্তু অনেকেই দুইদিন তাফালিং করে হারিয়ে যাবে, কিন্তু এই দাম কিন্তু আর কমবে না৷ আর এগুলার দোষ কাদের জানেন? আপনাদের।
.
কারণ যে দোকান খুলেছে আপনারা তাকেই এপ্রিশিয়েট করেছেন, এবার সে কিছু জানুক আর না জানুক৷ ভয়ঙ্করভাবে খোকলা করে দিয়েছে পুরো মার্কেট, আর ভেবেন না যে দাম অল্প স্বল্প বাড়বে, দাম কিন্তু ভালোই বাড়বে৷ অলরেডি ১৫৫% ট্যাক্স কাটে পার্ফিউম অয়েলের উপর, এটা কোথায় গিয়ে ঠেঁকে কে জানে? এর উপর কতজন লাইসেন্স করে, রুলস ফলো করে বিজনেস করছে বলেন তো? একটা ট্রেড লাইসেন্সও নেই ম্যাক্সিমামেরই কিন্তু যেখানে সেখানে টেবিল সেটাপ করে অথবা একটা পেইজ খুলে ব্যবসায় নেমে যাচ্ছে, অথচ আমি এমনও অনেককে দেখেছি যারা খুচরা দাম দিয়ে পার্ফিউম কিনে সেটা থেকেই ডিক্যান্ট সেল করে৷ মানে ব্যবসা জানুক আর না জানুক মার্কেটে নামতে হবেই। কাউন্ট করে রাখেন এইবার যে এই মার্কেট ভয়ঙ্করভাবে ধ্বসে যাবে। Congrats!
.
ঐ যে সে পুরনো কথাই সত্য, এদেশে কোনোকিছু কেউ শুরু করলে যতক্ষণ তাকে ত্যানা বানানো না যায়, ততোক্ষণ আর কেউ থামেনা৷ ইভেন বাঙালিরা বিদেশে গিয়েও মার্কেট এভাবেই নষ্ট করে, কম্পিটিশন ক্রিয়েট করে কে কার থেকে কমে আর কে কাকে ঠকিয়ে উপরে উঠতে পারে, আর এটা তো বাংলাদেশ৷