পোস্ট পুরোটা পড়বেন, সেইফ থাকতে চাইলে যত সময়ই লাগুক পুরোটাই পড়বেন। তার আগে শুনুন, কেউ যদি আপনাকে জ্বিন আতর নাকের সামনে ধরে প্র্যাঙ্ক করে তাহলে তাকে কষিয়ে চড় দিন, এবার যত আপন লোকই হোক কারণ এই গরমের মাঝে এই জিনিসের ক্ষতিকর প্রভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারেন আর ক্ষতি তো হবেই, যে কেউ এসব সেন্সিটিভ জিনিস নিয়ে মজা করে তাকে প্রতিহত করুন, এই পোস্ট পড়ান মেনশন দিয়ে এবং নিজেও পড়ুন ভালোভাবে৷
.
“দোস্ত! দেখ দেখ কি সুন্দর ঘ্রাণ এই আতরটার” বলে আপনি আপনার কাছের কোনো এক বন্ধুর হাতে মেখে দিলেন “জ্বিন আতর” খ্যাত এক প্র্যাঙ্ক পার্ফিউম অয়েল৷ আপনার ফ্রেণ্ড সরল মনে বিশ্বাস করে নিজ হাতে মেখে নিলো এবং স্নিফ করার পর, নাক ঝাড়া দিয়ে দু কানে হাত দিয়ে বসে পড়লো, আপনারা সবাই তা দেখে হা হা হো হো করছেন, কিন্তু হঠাৎ আপনার সেই ফ্রেণ্ড ধপাস করে মাটিতে শুয়ে পড়লো এবং জ্ঞান হারালো, কাছে গিয়ে দেখলেন নাক থেকে রক্ত আসছে৷ জিনিসটা এখন আর প্র্যাঙ্কের সিচুয়েশনে নেই, আপনাদের জগত ক্রমেই কালো হয়ে সংকীর্ণ হতে শুরু করলো, বলেন এখন কি করবেন……..?
.
তওবাহ করবেন৷ যারা ইতোমধ্যেই এইসব ফাইজলামি করেছেন তওবাহ করবেন, আর যারা করার প্ল্যান করছেন তাদের জন্যই এই পোস্ট। চুপচাপ পড়েন! এবং ম্যাচিওর হওয়া শিখেন, মজাচ্ছলে এসব করতে গিয়ে পাছে মৃত্যুকে দাওয়াত দিয়ে আনছেন কিনা আগে বুঝেন৷ পার্ফিউমারি কসমেটিকস ক্যামেস্ট্রির খুবই জটিল শাখাগুলোর একটি, দুঃখজনক এটাই যে এই সেক্টরটা এখন বেশিরভাগটাই জ্ঞানহীন হাতে চর্চিত হচ্ছে, অনেকে আছেন এক্সপেরিয়ান্সড তবে তারা ফ্রন্টে আসছেন না, আর সেজন্যই ইউজাররা যে কতভাবে নিজেকে ক্ষতির মুখে নিয়ে যাচ্ছে সেটা তাদের ধারণাও নেই, দেখি আজকে আপনাদের চোখ একটু খুলে দিতে পারি কিনা!
.
প্র্যাঙ্ক কখনো কখনো মৃত্যুর কারন হতে পারে, আর তা যদি হয় পার্ফিউমের মতো সংবেদনশীল জিনিস তাহলে যেকোনো ভয়ঙ্কর জিনিস ঘটতে পারে। কারন মানুষের ঘ্রাণেন্দ্রিয় অত্যন্ত সেন্সিটিভ জায়গা, একে অড ট্রিগার করে এমন জিনিসের প্রভাবে ইন্সট্যান্ট শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে, ব্রেইন আর ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ইভেন মানুষ মারাও যেতে পারে, আর এর পেছনে দায়ী হতে পারে আপনার হাতে থাকা ৩ মি.লি. সেই জ্বিন আতরটাও৷ এটা বোঝার জন্য আপনাকে সেন্সোরিয়াল সাইন্স জানতে হবে যা ব্রেকডাউন করে দিবে যে এইসব প্র্যাঙ্ক ওডোর কিভাবে বানানো হয়৷ জানতে চান? বলছি, ধীরে ধীরে পড়বেন, বুঝতে কষ্ট হলে বারবার পড়বেন৷
.
প্র্যাঙ্ক ফ্রেগর্যান্স তৈরিতে মূলত ইউজ করা হয় thiols বা mercaptans যেগুলো হচ্ছে অর্গানো-সালফার যৌগ। রিলিজ স্মেল রেডি করার জন্য ইউজ করা হয় methyl mercaptans যেটা পঁচা ডিম ও গোবরের মিশ্রণের মতো ঘ্রাণ সৃষ্টি করে, এবং এতে অম্লঘ্রাণ দেয়ার জন্য মিশ্রণ করা হয় H₂S মানে হাইড্রোজেন সালফাইড যা উচ্চমাত্রায় নাসিকায় প্রবেশ করলেই ঘটে অলফ্যাক্টরি প্যারালাইসিস। আবার স্ক্যাটোল এবং ক্যাডাভারিন কে যাইলেন বা অন্যান্য চীপ টাইল সলভেন্টে ভোলাটাইল স্টিয়ারিং করেও রেডি করা হয় এসব প্র্যাঙ্ক পার্ফিউম, যেটার স্মেল হয় আরো আরো আরো অনেক জঘন্য এবং এটা দীর্ঘমাত্রায় শুঁকলে যেকেউ অসুস্থ হতে পারে আর যদি কোনো মাইগ্রেন/ সাইনাসের পেশেন্ট শুঁকে নেয় তাহলে তো খবর আছে, মৃত্যু পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।
.
আরেহ ভাই! কমদামী সিন্থেটিক চীপ অ্যারোমা গ্রেড অয়েলই (ফুটপাত বা সস্তা কম্বো আতর) তো নানান প্রব্লেম তৈরি করে, কারন বারবার উচ্চ মাত্রার VOCs-এক্সপোজার হলে নিউরোলজিক্যাল সমস্যা যেমন স্মৃতি/মনোযোগ হ্রাস, তন্ত্রিক সমস্যা, কিডনি-লিভার প্রভাব, অ্যাজমা, এবং অনোসমিয়া/হাইপারোসমিয়া টাইপ প্রব্লেম ক্রিয়েট করে। সেখানে কেউ যদি ডাইরেক্ট অর্গানো সালফাইড কম্পাউন্ডকে এক্সপেরিয়ান্স করে তার অবস্থা কি হবে বুঝতে পারতেছেন? মানুষ কত সহজ ভাবে পার্ফিউমের জগতটাকে তাই না? ১ কেজি করে ক্যান কিনে আনলাম আর ৩ মি.লি. করে সেল করে টাকা কামাই করলাম, একদম হালাল! কোনো প্যারা নেই। কিন্তু প্যারা তো আছে ভাই। আপনি আদৌ ভালো জিনিসই যে পাব্লিককে খাওয়াতে পারছেন এর কোনো শিওরিটি আপনি দিতে পারবেন না, সেজন্য আমি ব্র্যাণ্ড প্রোডাক্ট ছাড়া কাজ করিনা, আপনারও করা উচিৎ না (কোনো সেলার ভাই যদি পড়ে থাকেন)
.
আমি অনেক মাইগ্রেন বা সাইনাসের রোগীকে আতর বা পার্ফিউম ইউজ করতে মানা করি, বলি যে একান্তই যদি করতে হয় তাহলে ১০০% ন্যাচারাল আতর ইউজ করবেন যাতে লাভ ছাড়া কোনো ক্ষতি নেই। সাইনাসের পেশেন্টদের ননঅ্যালার্জিক কেমিক্যাল ফিউমসই ট্রিগার করে বসে, সেখানে এসব সস্তা জ্বিন আতর তো মেরে ফেলবে পুরোপুরি। পার্মানেন্ট ডাইজোসমিয়া হওয়ার ভয় তো আছেই, আর তাছাড়া আতর বা পার্ফিউমের সাথে আমাদের একটা ধর্মীয় অনুভূতিও জড়িত আছে, সেটাকে এহেন কাজে ব্যবহার করা খুবই নেক্কারজনক ও এক প্রকারের অপরাধও বটে। সুতরাং, কারো যদি এই প্র্যাঙ্কে গা ডোবানোর ইচ্ছা থেকে থাকে তাহলে সাবধানতা অবলম্বন করুন, সবকিছু নিয়ে মজা করা অনুচিত।
.
আর যারা রেগুলার ইউজার আছেন তারাও একটু পার্ফিউমের জগতটাকে এক্সপ্লোর করার ট্রাই করুন, তবে শর্ত হচ্ছে অর্গানিক কেমেস্ট্রির ভালো জ্ঞান নিয়ে তবেই প্রবেশ করবেন এই তল্লাটে, নাহলে যত টার্মস আছে, স্ট্রাকচার আছে সব মাথার উপর দিয়ে যাবে, আর যারা সেলার আছেন তারা পার্ফিউম ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে মোটামুটি আইডিয়া নেয়ার পরেই সেল করতে নামুন, কারণ ব্যবসায় বারাকাহ তখনই হবে যখন আপনি ১০০% শিওর যে আপনার ব্যবসার দ্বারা কোনো কাস্টমার ১ তিল পরিমাণও ক্ষতি হচ্ছে না৷ বাংলাদেশেও পার্ফিউম মার্কেট আলহামদুলিল্লাহ ব্লুম করছে, এখন ব্যাপক সুযোগ আছে ভালো মন্দ বুঝে পা বাড়াবার। এবং আরো ব্যাপক সুযোগ আছে কেউ যদি জ্বিন আতর নিয়ে প্র্যাঙ্ক করতে আসে তাকে থাবড়াবার৷ দুটোতেই সমান মনোযোগ দিন৷
Reposted & Copyrights reserved by Scentara