Scentara Lifestyle

সুগন্ধির স্থায়িত্বের ব্যাপারে স্পষ্ট করে বলেন না কেন?

পার্ফিউমের লঞ্জিভিটি কেমন হবে তা স্পষ্ট করে বলেন না কেন ভাই?

বলি না এর কারণটা সাইয়েন্টিফিক, যদি সাইয়েন্টিফিক কারণটা জানতে চান তাহলে সেটা স্পষ্ট করে দিচ্ছি। তবে এই জিনিসটা প্রথমেই বুঝে নেন যে, নির্দিষ্ট করে ঘ্রাণের স্থায়িত্ব বলতে না পারার সবচেয়ে বড় রিজন হচ্ছে আপনার নাক নিজেই, কারণ পৃথিবীর সব মানুষের নাক সেইমভাবে স্মেল পায় না, ধরেন আমি যেই জিনিসের থেকে খুব তীব্র স্মেল পাবো সেটা আপনি খুবই লাইটভাবেও পেতে পারেন৷ আবার ধরেন আমি যেই জিনিস থেকে গোলাপের স্মেল পাবো সেখান থেকে আপনি কমলার স্মেল পেতে পারেন, কারণ একটা পার্ফিউমে থাকা গোলাপের ওডোরটা যেখানে আমার নাকে প্রমিনেন্ট সেখানে সেই পার্ফিউমের অরেঞ্জ পীল আপনার নাকে বেশি প্রমিনেন্ট৷ মানুষের ঘ্রাণ অনুভব করার ক্ষমতার ব্যক্তিগত এই পার্থক্যকে বলা হয় Olfactory perception। প্রত্যেক মানুষের নাক ও মস্তিষ্ক গন্ধকে একটু ভিন্নভাবে উপলব্ধি করে।

কিন্তু এটা কেন হয়? এর পেছনে বড় কারণ হলো Olfactory receptor variability। মানুষের ঘ্রাণ-রিসেপ্টর জিনে পার্থক্য থাকায় একই অণু ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন তীব্রতা বা ভিন্ন চরিত্রের মনে হতে পারে। আপনি কি জানেন পৃথিবীর সব মানুষ দাওয়াতের ঘ্রাণ সেইমভাবে পায় না? কেউ কেউ পোলাওয়ের ঘ্রাণ বেশি পায় তো কেউ কোর্মার ঘ্রাণ বেশি পায়৷ ইভেন ভাগাড়ে পড়ে থাকা ময়লার ঘ্রাণও একেকজন একেকরকমভাবে পায়, অনেক সময় অনেকে দেখবেন ঘ্রাণের তীব্রতায় বমি করে দেয় আবার আপনার কাছে হতে পারে এটা তেমন জোরালো কোনো ঘ্রাণই নাহ৷ এই Olfactory receptor variability জিনিসটা পার্ফিউমের বেলায় আরো বড় ঝামেলা তৈরি করে৷

এই যেমন গতকালই ইনবক্সে আমাদের হীট অফিসার নিয়ে কিছু ভাই রিভিউ দিয়েছেন, এরমধ্যে আফফান জামিল ভাই লিখেছেন যে উনি যোহরের আগে ইউজ করেছেন রাত ১০ টা পর্যন্ত স্মেল পেয়েছেন, লিয়াকত নামের একজন ভাই লিখেছেন হেভি প্রজেকশন পেয়েছেন জিমে ইউজ করে, কয়েকজন এসে জিজ্ঞাসা করেছে কি স্মেল এটা আবার জীবন বদ্দা বললেন দিল খোশ করা মাইন্ড রিফ্রেশিং একটা স্মেল এটা, কিন্তু অপরদিকে আবার ওসমান ভাই বলছেন যে উনি নাকি স্মেল পায় না, ফাহিম ভাই বলছেন খুব লাইট স্মেল পাচ্ছেন৷ এর কারণ কি? কারণ হচ্ছে মানুষের নাকে শত শত ধরনের ঘ্রাণ-রিসেপ্টর থাকে, যেগুলো বিভিন্ন সুগন্ধি অণু (odor molecules) এর প্রতি আলাদাভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। জেনেটিক পার্থক্যের কারণে প্রত্যেক মানুষের এই রিসেপ্টরগুলোর কার্যক্ষমতা আলাদা আলাদা৷

যেমন ধরেন, আমার কাছে কিন্তু হীট অফিসার উড়াধুড়া পারফর্ম করে আমি ১ দিনের বেশি স্মেল পাই, কিন্তু শুধু আমি পাই দেখে যে আমি গ্যারান্টি দিয়ে দিবো যে আপনিও পাবেন এর কোনো চান্সই নাই৷ আমি বলি যে ৫/৬ ঘন্টা পাবেন ডিসেন্ট। কিন্তু অনেকে দেখা যাবে এর ৫ গুণ পাবে আবার অনেকে এর ৩ ভাগের ১ ভাগ পাবে, পুরো জিনিসটাই সায়েন্টিফিক৷ আবার ত্বকের রসায়নও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। প্রতিটি মানুষের ত্বকের pH ভিন্ন, যা পার্ফিউমের অণুর স্থিতিশীলতা ও ভাঙন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে, যেমন ধরেন অয়েলি স্কিনে সিবাম বেশি থাকায় পার্ফিউমের মলিকিউল আটকে থেকে বেশি সময় স্থায়ী হয়, অন্যদিকে ড্রাই স্কিনে তা দ্রুত উবে যায়। এছাড়া ত্বকের আর্দ্রতা, মাইক্রোবায়োম বা ব্যাকটেরিয়া ফ্লোরা, এবং শরীরের তাপমাত্রা, এসব জিনিসও মলিকিউলার ভোলাটিলিটিকে প্রভাবিত করে, যার ফলে কারও ক্ষেত্রে প্রজেকশন বেশি হয় কিন্তু লনজিভিটি কম হয়ে যায় আবার উল্টোটাও হতে পারে৷

তারপরে আছে পরিবেশগত বিষয়গুলোও… তাপমাত্রা, বাতাসের আর্দ্রতা, বাতাসের প্রবাহ, সূর্যের তাপ এবং এমনকি আপনি ঘরের ভেতরে আছেন নাকি খোলা পরিবেশে, এসব বিষয়গুলোও কিন্তু সরাসরি পারফিউমের এভাপোরেশনের গতি পরিবর্তন করে। আগে বহুবারই বলেছি যে, গরম আবহাওয়ায় পারফিউম সাধারণত দ্রুত উড়ে যায়, তবে শুরুতে প্রজেকশন বেশি দেয় আবার ঠান্ডা আবহাওয়ায় অনেক সময় প্রজেকশন কম হলেও লঞ্জিভিটি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। একইভাবে আপনি কোথায় অবস্থান করছেন তাও গুরুত্বপূর্ণ, যদি কেউ সারাদিন এসি রুমে থাকে এবং অন্যজন রোদে বা বাইরের গরম পরিবেশে কাজ করে, তাহলে একই পারফিউমের স্থায়িত্ব ও প্রজেকশন স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন হবে। আবার অতিরিক্ত ঘাম, বারবার কাপড় পরিবর্তন বা ঘর্ষণও সুগন্ধের স্থায়িত্ব কমিয়ে দিতে পারে। এমনকি ঔষধ, প্রেগন্যান্সি, পিরিয়ড, হরমোন তাছাড়া মানসিক দুশ্চিন্তাও পার্ফিউমের উপর প্রভাব ফেলে, বুঝছেন কাহিনী কত দূর? আপনি সুতি কাপড় পড়বেন না গেঞ্জি পড়বেন সেটাও প্রভাব ফেলবে৷

তবে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে Olfactory Adaptation, যা সাধারণভাবে Nose Blindness নামে বেশি পরিচিত। যখন আপনি দীর্ঘ সময় ধরে একই ঘ্রাণের মধ্যে থাকেন, তখন আপনার মস্তিষ্ক সেই ঘ্রাণকে “স্বাভাবিক” হিসেবে ধরে নিয়ে তার প্রতি সাড়া দেয়াটা কমিয়ে দেয়। ফলে আপনার মনে হতে পারে যে পারফিউমটি আর নেই বা ফেইড হয়ে গেছে। বাস্তবে কিন্তু আশেপাশের মানুষ তখনও সেই সুগন্ধ ভালোই অনুভব করতে পারতেছে। তাই নিজের নাকে ঘ্রাণ কম পাওয়া মানেই পারফিউম ফেইড হয়ে গেছে, এমন ধারণা ইলজিকাল, কিন্তু এই জিনিসটা অনেকেও বোঝেনা বা জানেনা৷ আর আমাদের দেশের মানুষের একটা বাজে স্বভাব তো আছেই, তারা সুন্দর ঘ্রাণ পেলেও কমপ্লিমেন্ট দিবেনা অথচ কমপ্লিমেন্ট দেয়া কিন্তু একটা গুড ম্যানারস। তাই আর কেউ দেক আর না দেক, সেন্টারাবাসী যারা আছেন আপনারা প্লিজ কমপ্লিমেন্ট দিয়েন সবাইকে যদি গুড স্মেল করে কেউ।

এখন আপনিই বলেন, এতো এতো রিজন থাকার পর কেমনে আমি কাউকে নিশ্চয়তা দিবো যে ভাই ৮/১০/১২/১৬ ঘন্টা স্মেল টিকবেই টিকবে একদম গ্যারান্টি, এটা কোনোভাবেই বলা সম্ভব? একদমই সম্ভব না এবং এটা সায়েন্টিফিকলি প্রুভেন, যারা মার্কেটে ১৬ ঘন্টা বা ২৪ ঘন্টার গ্যারান্টি দেয় এরা ম্যাক্সিমাম হচ্ছে বাটপার এবং তেল ব্যবসায়ী, এদের অন্ততপক্ষে পার্ফিউম নিয়ে কোনো পড়ালেখা নাই। এখন, রেসেপ্টর ভ্যারিয়াবিলিটির কারণে যদি এমন হয় যে আপনি কোনো একটা পার্ফিউম থেকে স্মেল পাচ্ছেন না তাহলে আপনার সর্বশেষ করণীয় একটাই যে আপনি সেই পার্ফিউমটা এক্সচেঞ্জ করে অন্য কোনো একটা নিয়ে নেন, হতেই পারে যে ঐ পার্ফিউমে এমন কোনো একটা অ্যাকর্ড আছে যা আপনাকে স্যুট করছে না৷ যেমন আমার ভ্যানিলা টাইপ স্মেল বেশিক্ষণ সহ্য হয়না৷ অথচ এই জিনিস মানুষ কত লাইক করে৷ আবার অউদ আমার সেরকম স্যুট করে অথচ এই ঘ্রাণের কারণে কত মানুষ বমি করে দেয়। হতেই পারে বস! মানব শরীর ম্যাজিকাল জিনিস৷ আল্লাহই জানে এতো লম্বা সময় ধরে যে বকবক করলাম কতজন পড়ছেন, তবে যারা পড়ে আসছেন আপনারা জেম৷

0
    0
    Your Cart
    Your cart is emptyReturn to Shop
    Scroll to Top