❝হেহেহেহেহে, কত দাম বললেন? ৬ মি.লি. ৫০০? মানুষরে কি ছাগল পাইছেন মিয়া? ৪৮০০ টাকা হইলে তো এটার ১০০ মি.লি. মিডেল ইস্টার্ণ পার্ফিউমই পাওয়া যায়, তাইলে আপনারতে ৬ মি.লি. ইম্প্রেশন অয়েল কিনুম ক্যান?❞ যারা সেলার ভাই আছেন, তারা এই টাইপের কথা শুনছেন না? আমি জানি শুনছেন। নেন, আজকে আমি আপনাদের হয়ে এটার উত্তর দিয়ে দিচ্ছি, যদিও আমি কিন্তু ইন্সপায়ার্ড স্প্রে নিয়ে কাজ করি না, আমি অয়েলেই বেশি ফোকাসড৷
.
এখানে আমি মোস্ট ক্লিয়ারকাট উত্তর আপনাদের দিয়ে দিবো, এরপর আর এসব যদি কোনো কাস্টমার বলে তাহলে তাকে খুব সুন্দর করে আপনি বুঝিয়ে দিতে পারবেন যে আসলে ডিফারেন্সটা কি, কেন অয়েলের প্রাইজ বেশি আর স্প্রের প্রাইজ কম। আরেকটা কথা হচ্ছে আমার এই লেখাটা আমি কপিরাইট ফ্রি রেখেছি, তাই সেলার যারা আছেন তারা এটা নিতে পারেন রি-পোস্ট করতে পারেন, আমার অন্যান্য কন্টেন্টের মতো এটাতে আমি কপিরাইট ক্লেইম দেইনি, এটা লিখেছিই যেন কনফিউশন ক্লিয়ার হয়, তবে লেখাটা মোডিফাই করা নিষেধ।
.
অয়েলের দামটা বেশি হয় কেন, সেটা বোঝার আগে একটু অংক বুঝতে হবে, তার আগে কন্সেন্ট্রেশন নিয়ে আপনাদের একটু ধারণা দেই৷ EDP দিয়ে হিসাব করি, একটি সাধারণ Eau de Parfum তে সুগন্ধি কনসেনট্রেট সাধারণত ১৫–২০% থাকে, আর বাকি ৮০–৮৫% থাকে ইথানল (Perfumers Alcohol) ও অল্প কিছু ডিস্টিলড ওয়াটার। অর্থাৎ আপনি যখন ১০০ মিলিলিটার EDP তৈরি করবেন, তখন হয়তো মাত্র ২০ মিলিলিটার দামি পারফিউম ম্যাটেরিয়াল বা অয়েল কনসেনট্রেট লাগছে। কিন্তু আপনি যখন একই উপাদানের আতর বা পারফিউম অয়েল তৈরি করতে যাবেন তখন প্রায় পুরো ১০০ মিলিলিটারই সুগন্ধি উপাদান ও ক্যারিয়ার অয়েলের মিশ্রণ হতে হয়, এখানে যে অ্যালকোহল মিশিয়ে খরচ কমাবেন তার সুযোগ নেই।
এবার অংক দিয়ে হিসাবটা বোঝেন, স্ক্র্যাচ পার্ফিউমারিতে ঢোকার দরকার নাই ধরেন আপনি অয়েল আর ইথানল মিক্স করেই পার্ফিউম বানাবেন। এখন স্ট্যাণ্ডার্ড গ্রেডের মোটামুটি মানের পার্ফিউম অয়েল কিনতে গেলেও আপনার খরচ হবে ৪০ টাকা মি.লি মানে ১০০ মি.লি. কিনতে গেলে খরচ ৪০০০ টাকা, আর এভারেজ পার্ফিউম গ্রেডের ইথানল ধরেন ৬০০ টাকা লিটার৷ এখন আপনিই চিন্তা করেন আপনি যখন ১০০ মি.লি. পার্ফিউম বানাবেন তখন লাগতেছে ৪০ টাকা/মি.লি. দামের ২০ মি.লি. অয়েল যার দাম ৮০০ টাকা, আর বাকী ৭৫ মি.লি. হচ্ছে ইথানল যার দাম আসে ১২৫ টাকা আর ৫ মি.লি. পানি বা অন্য উপাদান, বাকী বোতল খরচ প্যাকেজিং ট্যাকেজিং মিলায়ে ধরেন ২০০ টাকা, মানে ১১২৫ টাকা জাস্ট খরচ যায়৷ অপরদিকে ১০০ মি.লি. আতর কিনলেই চলে যায় ৪০০০ টাকা৷
এবার একটু স্ক্র্যাচ পার্ফিউমারির দিকেও আসেন, আপনি যখন স্ক্র্যাচ পার্ফিউমারি করবেন তখন পুরো র ম্যাটেরিয়ালস শুন্য থেকে আপনাকে ক্রিয়েট করে নিতে হবে, ভালো মানের একটা পার্ফিউম অয়েল রেডি করতে গেলে আপনি যখন ক্যারিয়ার অয়েল ইউজ করবেন ধরেন Dipropylene Glycol (DPG), Isopropyl Myristate (IPM) সেগুলোর দামও কিন্তু ইথানলের চেয়ে অনেক বেশি আবার এসেনসিয়াল ম্যাটেরিয়ালসের কস্টিং তো আছেই। তো দেখা যাচ্ছে রেডিমেড অয়েল কেনেন অথবা বানিয়ে নেন পার্ফিউম অয়েলের কস্টিং আজীবনই বেশি, আর পার্ফিউম অয়েলের কদরও বেশি, একচুয়ালি যারা পার্ফিউম গেইম বুঝেন তাদের কাছে পার্ফিউম অয়েল এক অমুল্য রতন।
তবে আরেকটা কথা বলে দেই লাস্টে, বাংলাদেশ তথা বিশ্বব্যপী বর্তমানে যেই জট পার্ফিউমারি বিজনেস চলমান আছে, মানে অয়েল আনলাম আর ইথানল মিক্স করে স্প্রে বানায় দিলাম এগুলোকে আসলে পার্ফিউমারি বলে না, কেননা সিন্থেটিক রেডিমেড পার্ফিউম অয়েলগুলো অলরেডি কনসেনট্রেটেড থাকে এরউপর আবার যখন ইথানল মেশানো হয় তখন জিনিসটা ওভার কনসেনট্রেটেড হয়ে যায় এবং পার্ফরম্যান্সও নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু এগুলা বলে লাভ নাই, কারণ সেলারদের থামানো গেলেও কঞ্জিউমার কোনোদিনও থামবেনা, কারণ আমাদের দেশে মানুষ পার্ফিউমারি বুঝেই না, দেখে ঘ্রাণ হবে কিনা, ‘লাশ-টিং’ করবে কিনা, ২০০ ট্যাকায় পাওয়া যাবে কিনা। কঞ্জিউমার বিহেভিয়ার ঠিক না হলে লিখে, বলে বা সরাসরি প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েও কোনো লাভই হবেনা৷ তবে আমার মূল পয়েন্ট আশাকরি আপনারা বুঝেছেন৷