Smoke Ring জিনিসটা যুক্ত হয়েছে সেন্টারায় বেশকিছুদিন হলো তবে এটা সম্পর্কে লিখতে বসলাম এখন কারণ এটা সম্পর্কে ব্রিফ না দেয়া পার্ফিউম লাভারদের প্রতি অন্যায়, এখন কথা হচ্ছে এই পার্ফিউমটা যেই ডিএনএ থেকে ইন্সপায়ার্ড সেটা ১০৫ বছর পুরনো, আমি এখানে সেই পার্ফিউমটার নাম কোথাও বলবো না কিন্তু সেটার একটা স্টোরি আপনাকে বলে দিবো, বাকী এটা কোন জিনিসের ইম্প্রেশন সেটা বের করা আপনাদের হোমওয়ার্ক৷
সালটা ছিল ১৮৮৩ সালের কোনো এক আগস্ট মাস, ফ্রান্সের সাউমারের সাধারণ একটা ফ্যামিলিতে জন্ম নেন এক অসাধারণ ব্যক্তি, যার নাম ধরে নেন ‘কমু নাহ’ কিন্তু এই লোক কোনো পার্ফিউমার না, বরং উনি একজন পার্ফিউম ভিশনারি বা স্মেল ইমেজিনেটিভ পার্সন, তিনি তার ১৯ বছর বয়স থেকে একটা পার্ফিউমকে খোঁজ করে বেড়াতেন কিন্তু ঘ্রাণটাকে রূপ দিতে পারে এমন কাউকে খুঁজে পেতেন না৷ তৎকালীন টাইমে পার্ফিউম মানেই ছিল ফুলেল স্মেল উনি এটা থেকে বের হয়ে নতুন কিছু বানাতে চাইতেন৷
কিন্তু সাল ১৯২১ এ জনাব ‘কমু নাহ’ এর সাথে পরিচয় হয়, রাশিয়ায় জন্ম নেয়া আরেক ফ্রেঞ্চ পার্ফিউমার জনাব ‘নেহি বোলেগা’ এর সাথে, যিনি রাশিয়ার ইম্পেরিয়াল কোর্টের পার্ফিউমার ছিলেন, ‘কমু নাহ’ বুঝতে পারেন যে এই বেটা আমার কাজের লোক হতে পারে এবং তিনি কোনো বোঝাপোড়া ছাড়াই ‘নেহি বোলেগা’ থেকে আজব কিসিমের এক পার্ফিউম বানিয়ে দেয়ার ডিমাণ্ড করেন, যেই টাইপের পার্ফিউমের ব্যাপারে মেবি এ বেটাও জীবনে শোনে নাই।
তো ‘নেহি বোলেগা’ তো ব্যাপক চালু লোক, উনি কি করলেন ১৮৮৯ সালে বিশ্বে প্রথমবার গার্লেয়িন জিকি দ্বারা ব্যবহৃত হয়েছিলো এমন একটা পার্ফিউম উপাদান যার নাম ‘এলডিহাইড’ সেটাকে বেইজ হিসেবে ধরে একটা পার্ফিউম বানাতে বসে গেলেন, এটা ইউজের কারণ ছিল একঘেয়ে ফ্লোরাল স্মেলকে ফেইডেড করে দেয়া, যদিও এটা কোনো স্মেলকে রিপ্লেস করেনা বরং এটা স্মেল এফেক্ট তৈরি করতে পারে৷ তো ‘নেহি বোলেগা’ মোটামুটি ৮০+ ইনগ্রেডিয়েন্টস এর সমন্বয়ে একটা পার্ফিউম তৈরি করে ‘কমু নাহ’ কে দেখায় কিন্তু ‘কমু নাহ’ বেটা সেটা রিজেক্ট করে দেয়, কারণ স্মেলটা নাকি সফট না।
এদিকে ‘নেহি বোলেগা’ তো দমে যাবার লোক না, সে আবারো চুল্লি বিশ্লেষণ করতে বসে যায়, আবার নতুন জিনিস বানায়, আবারো রিজেক্ট এভাবে ৪ বার রিজেক্ট খাওয়ার পর ‘নেহি বোলেগা’ ভাবে ধুর বারবার-ই তো রিজেক্ট করে এবার স্মেলটারে একটু স্মোকি সফট এফেক্ট দিয়ে যা মনে চায় বানায়ে নিয়ে যাই রিজেক্ট-ই তো করবে। কিন্তু ৫ নাম্বার যখন নিয়ে গেল তখন ‘কমু নাহ’ স্মেল নাকে নিয়ে বসে পড়লো। বললো এটা কি বানাইসোস রে মিনশে? আমিও তো তোর হাত কাটায় দিবো যেন আর বানাতে না পারোস, কিন্তু ‘নেহি বোলেগা’ তো চালু সে বললো হাত কেটে দিলে তো তোর ব্যবসায় ভাটা পড়বে, সেজন্য আর হাত কাটা হলো না হেহ হে।
যাইহোক, ১৯২১ এ এটা লঞ্চ হলো, ‘কমু নাহ’ লঞ্চের টাইমে প্রথমবারের মতো নিজের একটা অপোজিট ফিলোসফির দিকে গেলেন, তার ছিল জাঁকজমকের নেশা কিন্তু এই পার্ফিউম উনি উপস্থিত করলেন একদম সাধারণভাবে, আর স্লোগান দিলেন এটা আমার সেই জিনিস যার স্মেল কমপ্লেক্স কিন্তু প্রেজেন্টেশন সিম্পল, (শিখেন কিছু ওর থেকে আপনারা তো খালি বোতল বোতল করেন) এবং উপস্থিত জনগণ এটার স্মেল দেখে পাগলায় গেল। এটা রাতারাতি সেন্সেশনাল লাক্সারি বিজনেসে রুপ নিয়ে নিলো৷ কারণ মানুষ এমন স্মেল কোনোদিনও পায়নি।
একটা পার্ফিউমার স্ট্রাকচারের টপে এলডিহাইড, বার্গামট, লেমন, নেরলি, ইয়াং ইয়াং আবার হার্টে জেসমিন, রোজ, আইরিস, ইয়াং ইয়াং, লিলি অব দা ভ্যালি রেখে বেইজ ক্রিয়েট করা স্যাণ্ডেলউড, ভেটিভার, পাচৌলি, ভেনিলা, মাস্ক, এম্বার, ওকমস এবং সবচেয়ে আশ্চর্যকর হচ্ছে সিভেট ইউজ করা একচুয়ালি সময়ের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়ে থাকার মত একটা ব্যাপার৷ তারচেয়েও বেশি জটিল হচ্ছে এই স্মেলটাকে টিউনিং করতে পারাটা, মানে এর অ্যাকর্ড এক্সপেরিয়ান্স আপনাকে মাল্টি লেয়ারড ভ্যারাইটি দিবে এমন জিনিস৷ আর পার্ফরম্যান্স মারাত্মক ভালো। এরকম একটা পার্ফিউম উনবিংশ শতাব্দীতে বসে বানানো মানে ত্রয়োবিংশের ব্লেণ্ডিংকে চ্যালেঞ্জ করার মত জিনিস।
সেজন্য এর মার্কেট ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে, এবং বিশ্বের প্রথম কোনো পার্ফিউম একটা ব্র্যাণ্ড ফেইস পায় ১৯৩৭ সালে, আর ১৯৫২ তে মার্লিন মনরোর মত সেলিব্রেটেড ফেইস তো এই জিনিসের নাম আওড়িয়ে পুরা জাতে উঠিয়ে দেয়, ধীরে ধীরে এই পার্ফিউমটা জাস্ট সুগন্ধি থেকে একটা কালচারাল আইডেন্টিটিতে রুপ নেয়, এটা একটা লাক্সারি আইকন হয়ে যায়, বড় বড় সেলিব্রেটি থেকে রাজা বাদশাহ সবাই এটা ইউজ করতে শুরু করে। তবে ১৯৭৫ সালে পার্ফিউমার ‘নেহি বোলেগা’ মারা যাওয়ার পর নতুন পার্ফিউমার হিসেবে যিনি আসেন তিনি সেইম ওজি স্মেলটা রেপ্লিকেট করতে পারেনি। তিনি এর বিভিন্ন ভ্যারাইটিজ বের করেন বর্তমানে জনপ্রিয় Eau Première ভার্শনটা।
কিন্তু মজার জিনিসটা কোথায় জানেন? সেন্টারার যেই ইম্প্রেশন সেটার স্মেল সেই শতবর্ষী পুরনো ওজিটার সেইম৷ ফ্যাক্টরিতে যখন আমি এটা স্নিফ করে দেখেছিলাম তখন একজন পার্ফিউম লাভার হিসেবে আসলেই ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম, এখন ‘স্মোক রিং’ সেল কম হোক বা বেশি৷ এই জিনিসটা একটা ইমোশন হয়ে গেছে আমার জন্য৷




Reviews
There are no reviews yet.