লেখাটা একটু বড় কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ আরেকটা জিনিস তা হচ্ছে, ছবিটা দেখেই ‘প্রাইজ কত’ বা ‘প্রাইজ?’ লিখে কমেন্ট কইরেন না প্লিজ, আমার কাছে এটা অনেক ইরিটেটিং লাগে, সবাই সবকিছু শুধু বেঁচাবিক্রির জন্য লিখে না বা বলে না আমি এটা সেলও করিনা, তাই আগে কষ্ট করে একটু পড়েন এরপর কন্টেন্ট এবং প্রেক্ষাপট বুঝে যৌক্তিক কোনো কমেন্ট যদি থেকে থাকে তাহলে করতে পারেন৷
তো যেটা বলছিলাম, ইদানীং পেইজ খুললেই দেখতে পাচ্ছি লাতাফা আর্ট অব ইউনিভার্সটা সবাই গণহারে সেল করতেছে মানে আর কয়েকদিন বাকী পাতিতে করে গুলিস্তান নিয়ে বসতে, কিন্তু ঐটাও সমস্যা না সমস্যা অন্য জায়গায় তা হচ্ছে ভ্যালু ইম্ব্যালেন্সিং, বাংলাদেশে কোনোকিছু আসলেই মানুষ পাগলের মত একটা জিনিসই বেঁচার জন্য উঠে পড়ে লাগে, কে ক্রেতা আর কে বিক্রেতা বোঝার কোনো সুযোগ থাকেনা সবাই একই গণ জোয়ারে এসে নামে৷ আর এখান থেকেই শুরু হয় কার থেকে কে কত কমে দিতে পারে সেই ফাত্রামি খেলা। তারা যে এটা কাস্টমারের জন্য করে এমনটা কিন্তু মোটেও না এই অসুস্থ প্রতিযোগিতাটা চলে আরেকজনকে মার্কেট আউট করার জন্য। এবং এই লো লেবার টাইপ কম্পেটিশনের কারণেই মার্কেটে নকল, ফেইক গুডস ঢুকে৷ কিভাবে?
প্রথমত কথা হচ্ছে, বাংলাদেশে মিডেল ইস্টার্ণ টাইপ পার্ফিউম ঢোকায়ই ৪/৫ জন, সেখানে আবার ৩ জনের নাম সবার উপরে তারাই আসলে আর্টস অব ইউনিভার্স ইন দিস সেকশন, বাকী আর যে বা যারা আছে সবাই রিসেলার, বাংলাদেশ আর পাকিস্তানে আপনি যেই দামে পার্ফিউম পাবেন তা অন্য কোথাও পাওয়া ইন্সপেক্টর চিঙ্গামের ভাষায় ‘ইয়াম্পসিবল’ বাংলাদেশে পার ইউনিটে প্রফিট ১০০-১২০ টাকা পার্ফিউমে, মানে লোকাল মুদি দোকানি টাইপ৷ এর মধ্যে আবার রিসেলাররা করে টোকাটুকির প্রতিযোগিতা সেজন্য ৩০/৪০/৫০ টাকা ছাড় দিতে দিতে প্রফিট থাকে ৫০ টাকা বা ৬০ টাকা৷ আর মানুষ ব্যবসা করেই প্রফিটের জন্য৷ যেই জিনিস ৬ পিছ সেল করলে লাভ ৩০০ টাকা তা মানুষ সেল করবে কেন?
আর এই সুযোগটাই নেয় চায়না, ওরা সবসময় ওঁৎ পেতে থাকে কোন দেশে কি চলে, যেমন বাংলাদেশে যেই জুয়া সাইট বা বেটিং সাইটগুলা আছে সেগুলোর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে চায়না, ওরা এটাও জানে যে বাংলাদেশে এখন পার্ফিউম ব্যবসা ব্লুমিং এই সুযোগে তারা কি করে নিজেদের এজেন্ট দিয়ে যেই পার্ফিউমগুলো দেশে সবচেয়ে বেশি হাইপে আছে সেগুলো পাঠায় দেয় যেগুলোর ফিনিশিং এত প্রাইম যে ধরার কোনো উপায় থাকেনা, মাঝেমাঝে সেলফ এপ্রচও করে যে দেশে তো এমন জিনিসের হাইপ আমরা একদম সেইম জিনিস বানায় দিবো অর্ধেক দামে কয় হাজার পিস নিবা বলো, আর যারা দুষ্টুচক্র আছে তারা এগুলো নিয়ে আসে ইভেন বড় বড় মার্কেটে সাপ্লাইও দেয় আমি নিজে দেখছি৷
এবার ফিরে আসেন আবার ৫০/৬০ টাকা লাভে, মানুষ ব্যবসা করে মুনাফার আশায় যখন কেউ দেখে ধুরো কম্পিটেশনের ঠ্যালায় লাভের লাভ কিছুই হচ্ছেনা তখন কি এই লোকগুলাই ডিপ্রেসড হয়ে ফেইক জিনিসগুলা কিনে আনে, এবং আরো কমদামে এগুলা নানান অফার দিয়ে ছাড়ে, এখন আপনাদের তো ইনফ্লুয়েন্সারদের কথায় নাচা লাগবে সেজন্য আপনারাও না বুঝে দাম কম দেখে একটা কিনে ফেলেন, কেউ ধরতে পারেন কেউ পারেন না, কারণ বর্তমানের যেই চাইনিজ ক্লোন এগুলার পার্ফরম্যান্স এবং সেন্ট একুরেসি দুইটাই বেশ ভালো। সমস্যা হচ্ছে জুস কোয়ালিটিতে এরা মিথানল ইউজ করে যা ক্ষতিকর। বাংলাদেশে তো আগে জাস্ট নিশ আর ডিজাইনার কপি হত এখন চায়না সব কপি করে, আর বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফ্রিকার মত দেশগুলারে খাওয়ায়৷ ফ্রান্সের স্থানীয় লোকেরা জিন্দেগীতেও গ্রে মার্কেট থেকে নিবেনা, ওরা অরিজিনালটাই স্টোর থেকে রিফিল করে নেয় শেষ হয়ে গেলে।
তাই এক জিনিস বেশি সেল হলে একটু ধৈর্য্য ধরেন, লাফ দিয়েন না। আর ইনফ্লুয়েন্সারদের কথায় পড়ার দরকার নাই, সব ইনফ্লুয়েন্সার সবকিছু বুঝেও না আর টাকা গেলে কিন্তু আপনারই যাবে, পার্ফিউম স্প্রে কিনলে কিন্তু কেউ আপনারে স্যাম্পল দিবেনা যে টেস্ট করে কিনবেন, অনলাইনে স্প্রে পার্ফিউম কিনতে গেলে হাতেগোণা কিছু শপ আছে সেখান থেকে কিনেন, স্পেশালি যারা এগুলো সরাসরি আনে তাদের থেকে নিতে পারলে সবচেয়ে বেস্ট এবং ঠকার চান্স কম৷ আর ভাই যারা বিজনেস করবেন বা এই টাইপের বিজনেসে নামবেন, প্লিজ ক্ষ্যামা দেন আপনি পার্ফিউমের ব্যবসাই করেন কোনো প্রবলেম নাই একটু নতুনত্ব আনেন, বিজনেস ইজ ব্রেইন নট কপিইং আদারস৷