আপনি কি এটা জানতেন যে, আতরের দাম কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকাও হতে পারে? যেমন পৃথিবীর সবচেয়ে দামী আতর হচ্ছে নাবিলের শুমুখ (ফুল জুয়েলড প্রেজেন্টেশন) যার বর্তমান দাম বাংলা টাকায় আনুমানিক ১৬ কোটি টাকা, এটা বিশ্বের সবচেয়ে দামী পার্ফিউম৷ শত বছর পুরনো হিন্দি অউদ, মাইসুরের স্যাণ্ডালউড, প্যাচুলি, অলিবানাম, ইয়াং ইয়াং, তুর্কিশ রোজ, এম্বারগ্রিসের সমন্বয়ে একে জীবন্ত করেছিলো পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত আতর ব্লেণ্ডার উস্তাদ আসগার আদাম আলী, যিনি নাবীলের মালিক।
এরপর গ্বলিয়াতুস সুলতান যেই জারটা ওমানের রাজ পরিবারের শান, যার ঘ্রাণ স্নিফ করতেও টাকা গুনতে হয় সেই জারের মূল্য ১৮ কোটি টাকা। এরপর অউদ মুয়াত্তাক, কিনাম কিয়ারা অউদ, নুখবা, এম্বার আসওয়াদ, তাইফারা এগুলোর মূল্য লাখ লাখ টাকা। কিন্তু মানুষ কি ভাবে? মানুষ ভাবে “আতর” তো গরীব জিনিস অনলি পার্ফিউম ইজ রিয়েল তাদের জন্য করুণা হয়। তারা অরিজিনাল “আতর” কি তা জীবনে কোনোদিন জানেওনি আর জানতেও পারবেনা। দেখেন ৩০/৫০ হাজার টাকার একটা ফ্ল্যাঙ্কার মানুষ চাইলেই ১/২ বছরে কিনতে পারবে কিন্তু ৩০ লাখের আতর কয়জন কিনতে পারবে? কি মনে হয় এবার আতর গরীব জিনিস?
ছবিতে আতরের শিশির পাশে যেই চামড়ার ব্যাগটা দেখতে পাচ্ছেন, এর উপরে দেখেন আরবিতে লিখা আছে “শামামাহ আসলি হিন্দি” এবং নিচে একটা সাল লিখা আছে যেটা যারা আরবি বুঝেন তারা বুঝে নিবেন যে এটা কত পুরনো হতে পারে, যারা বুঝেন না তাদের আর বুঝার দরকার নেই। এই “শামামাহ” টা মূলত জাদুঘরে রাখার মতো জিনিস৷ পৃথিবীর সবচেয়ে দামী শামামাহ হচ্ছে সুপার মালিক শামামাহ, সেই সুপার মালিকের জন্ম হয়েছে এই ব্লেণ্ডিং এর হাত ধরে।
আর এর দাম শুনলে আপনার মাথা ঘোরা শুরু হবে, তাই দামও বলবো না৷ শুধু এতোটুকো বলি আপনাদের, যে বা যাহারা ভাবে যে “আতর” গরীবি জিনিস তারা শোনেন আতরের চেয়ে এলিট কোনো জিনিস দুনিয়ায় নাই৷ মুসলিমরা একে শিল্পের আকারে নিয়ে গিয়েছিলো এক টাইমে। তাই বিজাতীয় জিনিস কেনেন ঠিক আছে আমিও কিনি, যা কিছু সুন্দর বা ভ্যালুয়েবল তা কেনাই যায় কিন্তু তাই বলে নিজের অস্তিত্ব ভুলে নয়, নিজেদের ট্রাডিশন নিয়েও প্রাউড হইয়েন৷ ছবির জিনিসটা বিক্রয়ের জন্য নয়। পুরো পোস্ট না পড়ে এক শ্রেণীর প্রাণী “প্রাইজ” বলে একটা কমেন্ট করেন যা বেশ দৃষ্টিকটু লাগে দেখতে৷ আর যারা এতোখানি পড়ে এসেছেন তাদের প্রতি শুকরিয়া।