কালচে মলাটে ঢাকা পুরোনো বুকশেলফের এক কোণে পড়ে ছিলো এক অদ্ভুত নাম “NoWhat”। নামটা শুনেই মনে হয় যেন কোনো প্রশ্নের উত্তর নেই, কেবল অনুভূতি আছে। বহুদিন পর এমন এক ঘ্রাণের দেখা পেলাম, যেটা কেবল নাকে লাগে না, মাথার ভেতরেও গল্প তৈরি করে। প্রথমবার রোল-অনটা হাতে নিয়ে ক্যাপ খুলতেই মনে হলো যেন কোনো পাহাড়ি ফলবাগানের দরজা খুলে গেছে আচমকা। বাতাসে ভেসে এলো ফ্রুটি স্প্ল্যাশের উচ্ছ্বাসিত ঘ্রাণ, আধপাকা আম, আপেল, কামরাঙার টক-মিষ্টি ধার, রসালো লিচির স্মেল, সাথে অদ্ভুত এক সবুজ সতেজতা। যেন রোদে ভেজা লেবুর খোসা হাতের আঙুলে চেপে ধরতেই চারদিকে ছিটকে পড়লো ফলের রস আর বুনো বাতাস।
NoWhat এমন এক ঘ্রাণ, যে প্রথম পরিচয়েই নিজের উপস্থিতি জানিয়ে দেয় নির্দ্বিধায়। আশেপাশের বাতাসকে সে নিজের মত করে বদলে ফেলে। মনে হবে, কেউ যেন সদ্য কাটা ড্রাগনফ্রুট, সবুজ আপেল আর কমলার মিশ্রণ ছড়িয়ে দিয়েছে বাতাসে। ফ্রুটি স্প্ল্যাশটাই এখানে নায়ক চনমনে, প্রাণবন্ত, তীক্ষ্ণ অথচ মোলায়েম। এই সুবাসের ভেতরে কোনো ভারী অহংকার নেই, বরং আছে দুরন্ত প্রাণশক্তি। যেন পাহাড়ি রাস্তায় মোটরসাইকেল ছুটিয়ে যাওয়া এক বেপরোয়া তরুণ, যার চোখে ভয় নেই, আছে কেবল স্বাধীনতার নেশা।
অনেক পারফিউম যেখানে কিছুক্ষণ পর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, সেখানে NoWhat ঠিক উল্টো। সময় যত যায়, তার ভেতরের ফলেল উচ্ছ্বাস আরও নরম হয়ে গায়ে মিশে যায়। শুরুতে যে টক-মিষ্টি বিস্ফোরণ অনুভব করবেন, কিছুক্ষণ পর সেটাই রূপ নেবে মৃদু জুসি মিষ্টতায়। যেন বরফ ঠান্ডা ফলের শরবত ধীরে ধীরে শেষ চুমুকে এসে মোলায়েম হয়ে উঠছে। বাতাসের সাথে তার সম্পর্ক এতটাই গভীর যে চলাফেরার প্রতিটা মুহূর্তে সে নিজের অস্তিত্ব নতুন করে জানান দেয়।
আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার? NoWhat কোনো আবেগের উপর নির্ভর করে না। সে কারো বিশ্বস্ততা বা বিশ্বাসঘাতকতার গল্প বলে না। সে কেবল বাতাসকে ব্যবহার করে নিজের পরিচয় ছড়িয়ে দেয়। আপনি যেখানে যাবেন, আপনার চারপাশে তৈরি হবে এক ফলেল, উচ্ছ্বসিত, প্রাণবন্ত আবহ। যেন গরম দুপুরে হঠাৎ বরফ মেশানো জুসের গ্লাস ঠোঁটে ছুঁয়ে গেছে।




Reviews
There are no reviews yet.