কায়রোর ভোর। পুরনো বাইনাল-কাসরাইন গলির পাথুরে রাস্তায় আজানের সুর ভেসে আসছে। কাঠের জানালার ওপারে বহু বছরের পুরনো দোকানের সারি, আর একটু দূরেই কাচের উঁচু ভবন, যেখানে সকালের রোদ আয়নার মতো ঝিলিক দিচ্ছে। নাগিব মাহফুজের কায়রো ট্রিলজির সেই শহর, যেখানে এক প্রজন্মের পুরনো ঐতিহ্য আর পরের প্রজন্মের নতুন স্বপ্ন একই গলিতে মুখোমুখি দাঁড়ায়। দাদার আমলের আদব আর নাতির আমলের গতি, কেউ কাউকে মুছে দেয় না, বরং মিলেমিশে তৈরি করে এক নতুন পরিচয়। যেই পরিচয় স্ব গৌরবে অধিষ্ঠিত Shuhrah Elixir এর ঘ্রাণের মাঝে।
এটা মিডেল ইস্টার্ণ বাজেট হাউজের আমার সবচাইতে প্রিয় পার্ফিউম যার শুরুতেই আসে ম্যান্ডারিন, লেবু আর আদার এনার্জেটিক সুর। যেন ভোরের গলিতে ভেজা পাথরের ওপর সদ্য পানি ছিটানো হয়েছে, আর বাতাসে ভেসে এসেছে কাটা লেবুর তাজা রসালো আমেজ। ম্যান্ডারিন দেয় মিষ্টি-রসালো উজ্জ্বলতা, লেবু দেয় তীক্ষ্ণ, ক্লিন টক ভাব, আর আদা আনে হালকা মশলাদার ঝাঁঝ। এই শুরুটা আমার কাছে একদম আধুনিক, তেজি আর এনার্জেটিক। তবে মনে রাখবেন, এই ঝলমলে ওপেনিং স্থায়ী হয় মাত্র কয়েক মিনিট। এটা শুধু দরজা খুলে দেয়, আসল গল্প শুরু হয় তার পরে।
সাইট্রাসের ধার কমে এলে ঘ্রাণটা ফিরে যায় তার ক্ল্যাসিক চরিত্রে। হার্টে ফুটে ওঠে গোলাপ, ভায়োলেট আর অ্যাম্বারের এক মার্জিত মিশ্রণ। ভায়োলেট যুক্ত করে পাউডারি আর সামান্য মাটিঘেঁষা ফুলের মজা, গোলাপ যোগ করে মখমলি পুষ্পময়তা, আর অ্যাম্বার পুরো মিশ্রণকে ধরে রাখে উষ্ণ, মসৃণ এক আলিঙ্গনে। এই ধাপটাই Shuhrah Elixir-এর সবচেয়ে সূক্ষ্ম অংশ। গোলাপ থাকলেও এটা মোটেও মেয়েলি নয়, বরং পুরুষালি আর পরিশীলিত। যেন দাদার আমলের আতরদানির সেই পরিচিত ফুলের সুবাস, যা নতুন যুগের ক্লিন টেক্সচারে নতুন করে সাজানো হয়েছে।
বেইসে গিয়ে ঘ্রাণটা স্থির হয় প্যাচুলি, অ্যাম্ব্রক্সান, উদ আর চন্দনের গভীর উষ্ণতায়। প্যাচুলি দেয় মাটিময়, সামান্য ঝাঁঝালো গভীরতা, অ্যাম্ব্রক্সান আনে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন আর মিনারেলিক ঔজ্জ্বল্য, উদ দেয় হালকা, প্রায় স্বচ্ছ কাঠময় আভিজাত্য, আর চন্দন যোগ করে ক্রিমি, মসৃণ ফিনিশ। উদটা এখানে চড়া বা ভারী নয়, বরং সূক্ষ্মভাবে ভেতরে মিশে থাকে। ঠিক যেমন কায়রোর পুরনো গলির ইতিহাস প্রতিটি পাথরের ভাঁজে লুকিয়ে থাকে, কিন্তু চোখ ধাঁধায় না। প্রাচীন প্রাচ্যের উদ আর আধুনিক ল্যাবরেটরির অ্যাম্ব্রক্সান এখানে পাশাপাশি বসে, একে অপরের পরিপূরক হয়ে।
পারফরম্যান্সের দিক থেকে Shuhrah Elixir বেশ শক্তিশালী। প্রথম দুই-তিন ঘণ্টা প্রজেকশন থাকে জোরালো, যা আশেপাশের মানুষের নজরে পড়ার জন্য যথেষ্ট। এরপর ধীরে ধীরে ঘ্রাণটা ত্বকের কাছাকাছি নেমে আসে, তবে লংজিভিটি ৮ ঘণ্টার বেশি টিকে থাকে। কবজি, গলার পাশে আর কানের পেছনের মতো পালস পয়েন্টে লাগালে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়, আর কাপড়ের কাছাকাছি লাগালে আরও বেশি সময় থাকে।
ব্যবহারের জন্য এটা বেশ বহুমুখী। সতেজ সাইট্রাস আর ক্লিন বেসের কারণে অফিস, গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, ভার্সিটি বা দিনের বেলার আউটিংয়ে এটা চমৎকার মানায়। আবার উষ্ণ অ্যাম্বার আর উদের গভীরতার জন্য সন্ধ্যার ডিনার, ফর্মাল অনুষ্ঠান কিংবা বিয়ের আসরেও এটা আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি তৈরি করে।
যারা এমন একটা ঘ্রাণ খুঁজছেন, যেখানে ঐতিহ্যের গভীরতা আর আধুনিকতার পরিচ্ছন্নতা একসাথে আছে, তাদের জন্য Shuhrah Elixir একদম সঠিক পছন্দ। এটা এমন ঘ্রাণ, যা প্রথম দেখায় আপনাকে সতেজ করে, আর যত সময় যায়, তত গভীরভাবে নিজের একটা গল্প বলে যায়।



Reviews
There are no reviews yet.