আপনারা কি Red Ocean Strategy সম্পর্কে জানেন? অথবা Bubble Business? IBA তে Bandwagon Entry এর আণ্ডারে এই জিনিসটা পড়ানো হয়। সহজ ভাষায় বললে এটা হচ্ছে এমন একটা জিনিস যে, অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় যেকোনো ব্যবসার একটা ট্রেণ্ড বা ইনফ্লুয়েন্স দেখে সবাই সেটাতে ঝাপিয়ে পড়ে যার ফলে অতি অল্প সময়ের মধ্যে বাজার ভেঙে পড়ে৷ এখন ব্যবসাটা সফট এবং হার্ড উভয় স্কেলেই হতে পারে৷ সফটের মধ্যে ধরেন ফেসবুকের শর্ট ফর্ম রীলসের বিজনেস, পেইজ খুলে ক্ষেতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছড়া বললেই ভিউ আর ইনকাম, এরপর সবাই একযোগে লাফিয়ে পড়ার পর এখন মিলিয়ন ভিউতেও আর ডলার দেয়না ফেসবুক৷
হার্ড স্কেলের হিসেবে হানিনাটসের ব্যবসা, জামশেদ মজুমদার ভাইরাল হওয়ার সাথে সাথেই সবাই লাফিয়ে পড়েছে এরপর রাতারাতি গায়েব৷ আর এখন চলছে পার্ফিউমের ব্যবসা৷ নোজ ইনফ্লুয়েন্সিং কজ সামনে এনে সবাই নিজেকে পার্ফিউমার ভাবছে, ভাবছে নেমে গেলেই হয়ে গেল৷ নিজের নাককে গড গিফটেড ভাবছে অথচ তার আসলে রিয়েল লাইফ কোনো নলেজ নাই। এই জিনিসটাকে বলে Dunning–Kruger effect মানে অজ্ঞাত হয়েও নিজেকে বিশেষ কিছু ভাবার বা দেখানোর প্রবণতা৷ আইরনি হচ্ছে এই টাইপের লোকেদের কপালেও কিছু গাওয়ার খদ্দের জুটে যায়, কারণ মূলত তাদের বাক চটুলতা আর কমদামে জিনিস পাওয়ার লোভ৷ অনেকটা বাহা’ই আর কাদিয়ানীর যেভাবে মুরীদ জুটেছে সেরকম আরকি!
কিন্তু প্রব্লেমটা ঠিক অন্য জায়গায়, প্রব্লেমটা হচ্ছে বাংলাদেশীদের রেইসে। জাতিগতভাবেই আমরা প্রচণ্ড অলস, লোভী, স্বপ্নবিলাসী এবং ফকিন্নি মেন্টালিটির৷ সেজন্যই দেখবেন আমাদের এখানে যেকোনো কমিউনিটিতে যদি কেউ রাইজিং পার্সোনা ক্রিয়েট করতে পারে কোনোভাবে তাহলে তাকে গুরু বানিয়ে ফেলা হয়, আপনাদের বুঝতে হবে যে “পার্ফিউমারি” পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল জিনিসগুলোর একটি। এখানে আপনি ইন্টেন্স লেভেলে নাই এমন কাউকেই ওপেন স্পেস দিতে পারবেন না৷ আমার আশ্চর্য লাগে, আপনারা টিকটকার সেলারদের থেকে পার্ফিউম কিনেন৷ মানে হাউ? একটা ছেলে ভ্লগ স্টাইলে মিডফোর্ড যাচ্ছে, গিয়ে একটা “ভাম্পাইয়ার ব্লাড” (এমনেই উচ্চারণ করে এরা) কিনতেছে এরপর প্লাস্টিকের জগে ঢেলে নন মেনশনড একটা এলকোহল মিশায় আপনাদের কাছে সেল দিতেছে আপনারাও কিনতেছেন৷ এটা নাম আবার দিছে ❝ইনেশপায়ার্ড ভার্শন❞
মানে ভাই হোয়াদ্দা টাক? এতোটুকো কমনসেন্স তো থাকা দরকার নাকি? এরপর গরীবের ইউসুফ ভাইসহ হ্যানত্যান আরো নানান ক্যাটাগরি তো আছেই। ইউসুফ ভাই হিমসেলফ ইজ আ মার্কেটিং স্টার, দুনিয়ার কারো পক্ষে জাস্ট ঘ্রাণ নিয়ে স্মেল বানানো পসিবল না এটা মাথায় রাখেন, পার্ফিউম কাস্টমাইজেশন অনেক লং টার্ম প্রসেস। আবার অনেকে দেখি আন্দাজেই ফিক্সেটিভ হিসেবে এম্ব্রোক্সেন, আইসো ই সুপারসহ এটা সেটা ইউজ করতে থাকে৷ ভাই তুই জানোস কোন নোটস ডিফিউশনে কোন ফিক্সেটিভ লাগে? ফিক্সেটিভ ক্যাশিং এর কোনো পড়াশোনা বা প্র্যাক্টিকালিটি আছে তোর? তুই কিভাবে এই পাউডার, এই লিকুইড ঢালোস? আমি তো বুঝিনা৷ এগুলো করে নিজেকে অনেক প্রফেশনাল অনেক জান্তা হিসেবে জাহির করা যায়, ইভেন সাব-কনশাস মাইন্ডে ওরা নিজেদের এটাই ভাবতে থাকে যেটা Dunning–Kruger effect টাইপের সাইকোলজিক্যাল প্রব্লেম।
আবার দেখেন অনেকে কি করে? পার্ফিউমে এলকোহল মিশানোর পর বলে ফ্রিজে নিয়ে রেখে দিতে, আগে বলদ ম্যাসারেশনের তো কোনো শর্টকাট নাই৷ ফ্রিজিং বড়বড় কোম্পানিরা করে চিল ফিল্টারেশনের জন্য, সর্বোচ্চ নোট পিরামিডকে রি-ব্যালেন্স করার জন্য৷ ফ্রিজিং করলে স্মেল ম্যাচিওর তো হবেই না উল্টো আন্দাজে টেম্পারেচার এক্সপোজ করলে নোটস ডিসটোর্ট হবে৷ কিন্তু এখন এটা না বুঝানো সম্ভব কাস্টমারকে না এসব মূর্খ সেলারদের৷ আবার ইদানীং দেখি কিছু লোক বুস্টিং করে পাইকারি সেল করতেছে, বলতেছে আমাদের থেকে নেন আমরা আপনার সম্পূর্ণ ব্যবসা সেট-আপ করে দিবো৷ আমরা দুবাই, সৌদি, ইউরোপ, এমেরিকা থেকে ইম্পোর্ট করি। ১০০ মি.লি. আমাদের থেকে নিলে দাম পড়বে ১০০ টাকা। মানে সিরিয়াসলি? লুযি আর ইউরোভ্যালির এজেন্টদেরও নাকি ইদানীং বুস্ট করে প্রোডাক্ট সেল করা লাগে।
এখন এই তথাকথিত পাইকারও কিন্তু “ইম্পোর্ট” বানানটাও জানেনা। সে নিজেও আরো ৬ হাত ঘোরা প্রোডাক্ট এনে আরেকজন রি-সেলারকে দেয়। কারণ আসল ইম্পোর্টার বলার মতো লোক বাংলাদেশের মার্কেটে অনেক কম আছে। আমি নিজেকে সেলফ সোর্সার বলি নট ইম্পোর্টার যেহেতু আমার ৮০ ভাগ মাল আমি নিজেই সোর্স করি সরাসরি। ইম্পোর্টিং গেট পাড়ি দিতে গেলে আমার মিলিয়ন ডলারের বিজনেসে ইনভলভ হতে হবে তখন আবার বিটুবিতে নামতে হবে। যেটা আমি এই চোরবাজারে কোনোদিনও করবো না। রেড ওশ্যান স্ট্র্যাটেজিকে ব্লাড রেড বানানোর কোনো ইচ্ছাই আমার নাই। কিন্তু আমার বিজনেস সেন্স যতটুকো আছে তাতে অনুমান করতে পারি যে, এই পার্ফিউম কমিউনিটিটাও শীঘ্রই মুখ থুবড়ে পড়বে। একদিকে আনলিশড জিনিসপাতি, আরেকদিকে ভণ্ড পার্ফিউমার, আরেকদিকে শ্যাডি রিভিউয়ার, অন্যদিকে আবার ক্লোন ডিক্যান্টের মহামারি। বাকী বহু কথা আছে। পরে আবার আলাপ করবো, গ্রুপে জয়েন দিয়েন সবাই৷