সেন্টারায় একটা প্যাকেজিং আপডেট আসবে, তবে জিনিসটা কিভাবে ফাংশন হবে তা নিয়ে আমরা এই পোস্টে আলাপ করবো, আরেকটা জিনিস নিয়েও আলাপ দিবো আর তা হচ্ছে “The Game of Packaging and How It Affects Pricing” আমার মনে হয় এই ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ তাই এই পোস্টটা লিখতে বসলাম, জানিনা কতদূর রিচ হবে তবে আমি আশাকরি যারাই পড়বেন উপকারে আসবে৷
.
প্রথমত একটা কথা হচ্ছে, মার্কেটে সবাই কোনো না কোনো বিজনেস মডেল ফলো করে, কারো প্রোডাকশন কন্সেপ্ট থাকে যেটা হচ্ছে কম জিনিস আনবো কিন্তু লাক্সারিয়াসভাবে প্রেজেন্ট করে দামে বিক্রি করবো, আবার অনেকের থাকে কোনোরকম জিনিস এনে ইচ্ছামতো যত পারা যায় সেল করবো দাম কমিয়ে, একজন ২০ টা সেল করে ২০ টাকা কামানোর চিন্তা করে আরেকজন ১ টা সেল করে ২০ টাকা কামাই করার চিন্তা করে৷ তবে কেউই নিজের লস করে আপনাকে দিবেনা, যে যা-ই বলুক না কেন, আব্বা ডাকলেও দিবেনা৷ ধরেন আমি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্যাকগ্রাউণ্ড থেকে বিলং করা একজন মানুষ, সেন্টারার ফাণ্ডিং থেকে আমি কোনো টাকা ধরিনা তারপরেও কিন্তু আমি লস করে আপনাকে কিছু দিবোনা, কারণ আমার টার্গেট থাকবে কম হলেও কিছু প্রফিট হোক যেন সামনে আরো ভালো করে R&D করা যায় বা কোয়ান্টিটি বাড়ানো যায়।
.
কিন্তু আমি অলোয়েজ ট্রাই করি যেন আমার প্রাইজিংটা মোডারেট থাকে, কারণ আমি চাই যেন কেউ প্রাইজিং এর কারণে সেন্টারা থেকে ফিরে না যাক বা কষ্ট না পাক৷ যেকোনো একটা প্রোডাক্টের প্রাইজিং নির্ধারিত হয় প্রোডাক্টের কোয়ান্টিটি, প্রেজেন্টেশন, মার্কেটিং কস্টিং, অফিস কস্টিং, রেন্টাল এবং ওয়েজেস এর উপর। যেমন আমি প্যাকেজিং বা আতরের বোতলে খুব আহামরি খরচ করতে রাজী না, আমার বর্তমানে যেই প্যাকেজিং তার টোটাল কস্টিং ধরতে পারেন ৮০/৮৫ টাকার মতো। এখন আমি যদি লাক্সারি একটা বক্স বানাই, ফ্যান্সি ডিজাইনড বোতল উইদ কাস্টম লোগো দেই তাহলে এই কস্টিং বেড়ে হবে ৩০০ টাকা। যেই আতর আমি এখন সেল করতে পারতেছি ৫০০ টাকায় তার দাম তখন গিয়ে দাঁড়াবে ৮০০ টাকা। এই ৩০০ টাকা কিন্তু আমি আপনার থেকেই নিবো কারণ আমি আপনার কাছেই জিনিসটা প্রেজেন্ট করছি, আমার লিকুইডে কোনো তারতম্য হবেনা কিন্তু প্যাকেজিং এর কারণে জিনিসটার দাম বেড়ে যাবে।
.
রিয়েল লাইফ উদাহরণ দেই, ধরেন আমি কিছুদিন আগে শাহজাহানাবাদ কিনেছি এটার মাত্র ৫ মি.লি. এর দাম ১৮৫০০ টাকা। এখন আমরা নরমাল ৬ মি.লি. যেই আতরের বোতল ব্যবহার করি সেই বোতলে যদি ওরা এটা সেল করতো তাহলেও কি দাম ১৮৫০০ টাকাই হতো? কক্ষনো না, হয়তো দামটা অর্ধেক হয়ে যেত, কিন্তু এখন আপনি শুধু আতর কিনছেন না সাথে একটা স্টোরি একটা চোখ ধাঁধানো প্রেজেন্টেশনও কিনে নিচ্ছেন যার টোটাল মূল্য ১৮৫০০ টাকা। পার্ফিউমের মার্কেটে একটা কথাই আছে “ফুল প্রেজেন্টেশন” নামে, যেখানে ক্রীডের একটা ক্যাপলেস টেস্টার ইউনিটের দাম ২৫ হাজার টাকা আবার সেইম জিনিসটাই যদি ফুল বক্স প্রেজেন্টেশন কেনেন তাহলে দাম দাঁড়ায় ৩৬ হাজার টাকা, লিকুইড কিন্তু একদম সেইম কিন্তু আপনার মনস্তত্ব শুধুমাত্র লাক্সারি একটা ফীল পাবে এই যা!
.
মার্কেটে অনেক ব্র্যাণ্ড আছে যারা আমরা যেই জিনিসটা সেল করছি তারাও হুবুহু সেইম জিনিসটাই সেল করছে তবে তাদের প্রোডাক্টের দাম ২০০/২৫০ টাকা বেশি আমাদের তুলনায়, এর কারণ কিচ্ছু না, তাদের মার্কেটিং কস্টিং বেশি আর বক্স বা বোতলটা আরেকটু দামী এতোটুকোই, যদি বলে আমাদেরটা প্রিমিয়াম তাই দাম বেশি তাহলে কথাটা চাপাবাজী। কারণ একটা কোম্পানি তার খরচ কাস্টমার থেকেই তুলে নেয়, ধরেন মার্কেটে যারা লাক্সারি বক্স দেয় ফুল প্রিন্টেড লোগো করা বোতল দেয় এটা যদি আমি দিতে যাই তাহলে আমার প্রোডাক্টের দাম অন্তত ৩০০ টাকা বাড়ায় রাখতে হবে। এজন্য তো আমি এলিগেন্স, সুপার প্রিমিয়াম কোয়ালিটি এগুলো বলবো না, আমার কোয়ালিটি বেস্ট ঠিক আছে তবে দাম বেড়েছে প্যাকেজিং এর জন্য। তারপরেও প্যাকেজিং এর একটা এক্সট্রা কদর থাকে অনেকের কাছেই, সেটার জন্য আমরা একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি৷
.
কি ব্যবস্থা? আমরা ওয়েবসাইটে একটা ফাংশন এড করছি, আপনি কোনোকিছু কার্টে তোলার পর যখন প্রসিড করবেন বা চুড়ান্তভাবে কিনতে যাবেন তখন আপনাকে একটা অপশন দেখাবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে আপনি কি রেগুলার প্যাকেজিং চান নাকি ইম্প্রেশন প্যাকেজিং চান৷ রেগুলার প্যাকেজিং চাইলে আপনাকে এক্সট্রা কোনো টাকা গুণতে হবেনা, ইম্প্রেশন প্যাকেজিং চাইলে এক্সট্রা ১৮০ টাকা আপনার খরচ করতে হবে, সেক্ষেত্রে আমরা আপনাকে দামী বক্স দিবো এবং কাস্টম বোতলে পার্ফিউম অয়েলটা পাঠাবো, এর উপরে আরেকটা অপশন থাকবে যার নাম “রয়েল প্রেজেন্টেশন” এর জন্য এক্সট্রা ১০০০ টাকা খরচ করতে হবে৷ আমরা আপনাকে সম্পূর্ণ লাক্সারিয়াস রয়েল ক্যাটাগরির বক্স দিবো, এবং নিজস্ব ডিজাইন করা বোতল দিবো৷ ভিতরের লিকুইড সবক্ষেত্রেই একদম সেইম টু সেইম থাকবে কোনো উনিশ/বিশ নেই। আপনি শুধু এক্সট্রা টাকা দিয়ে প্রেজেন্টেশনটা কিনবেন৷ কারণ আমি দামী/লাক্সারি দেখাতে গিয়ে চাইনা কোনো অল্প আয়ের কোনো ভাই না কিনতে পেরে ফিরে যাক৷ এতো লাক্সারি দেখিয়ে লাভ নেই যেখানে মধ্যবিত্তের হক-ই না থাকে৷
.
বাংলাদেশে সুপার ডুপার হাইপার লাক্সারিয়াস একটা হাউজ ক্রিয়েট করা আমার জন্য কোনো ব্যাপার না ইনশাআল্লাহ, কারণ বাপ/দাদার আমল থেকে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি সেট-আপ আছে, ৪২ টা দেশে পণ্য এক্সপোর্ট হয় আমাদের আল্লাহর রহমতে, কিন্তু সেন্টারার ক্ষেত্রে আমার টার্গেট প্রথম থেকে ছিলো দুটো। একটা হচ্ছে মানুষকে কোয়ালিটিফুল পার্ফিউম চেনানো আরেকটা হচ্ছে যতটুকো কমের মধ্যে পারা যায় পার্ফিউম অয়েল আপনার হাতে তুলে দেয়া, এজন্য কখনো প্রেজেন্টেশন কেমন হবে তা নিয়ে মাথা ঘামাইনি তবে খুব শীঘ্রই প্রেজেন্টেশনের অপশনটা এভেইলেবেল হয়ে যাবে ওয়েবসাইটে, এবার যে যেটা চায় চুয করে নিতে পারবে। ঠিক আছে না?