Scentara Lifestyle

The History of Jannat El Firdous

সাল ১৪৫৩….
.
বাইজান্টাইনদের সূর্য অস্তমিত হয়ে পৃথিবীতে নতুন এক সূর্য ওঠার পালা, এই সূর্যকে টেনে এনেছে মাত্র ২১ বছরের এক যুবক যে মাত্র ২ বছর আগে সুলতান হয়েছে, যার হাতে পতন ঘটেছে তখনকার বিশ্ব মোড়ল রোমান সম্রাজ্যের, যে দখলে নিয়েছে বাইজান্টাইনদের এক হাজার বছরের অদম্য দূর্গ, যার ব্যাপারে বিশ্বাস করা হতো যে এই দূর্গ অপরাজেয়, সেই দূর্গকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিয়ে এর উপর নিজেদের পতাকা উড়িয়ে দিলো যেই বীর তার নাম সুলতান মেহমুদ আল ফাতেহ৷ যিনি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাহাজকে পাহাড়ে চড়িয়েছিলেন এবং গোল্ডেন হর্ণকে ফাঁকি দিয়েছিলেন৷
.
সবাই যখন রোমানদের ভয়ে পিছু হটছিলো তখন যিনি একা সামনে এগিয়ে চলছিলেন তিনিই মেহমুদ আল ফাতেহ, একজন রিয়েল আলফা মেইল, একজন রিয়েল হিরো, রিয়েল জেনারেল। আর টগবগে এই সুলতানের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় ভালোবাসা ছিলো “সুগন্ধি”, বলা হয় উনি সেসময়ের শ্রেষ্ঠ সুগন্ধি কালেক্টর ছিলেন (রোমানদের ভাণ্ডারসহ)৷ এবং তিনিই বর্তমান জান্নাতুল ফেরদৌস আতরের আদিপিতা কে ব্যবহার করে গেছেন। সেই ঘটনার দিকেই যাবো এখন৷
.
কন্সট্যান্টিনোপোল বিজয়ের পর সুলতান মেহমুদ নিজেকে ঘোষণা করে “কায়সার এ রুম” বা রোমের সম্রাট হিসেবে, ইস্তানবুলকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাজধানীতে রূপ দেন। ইউরোপ, বলকান, আনাতোলিয়া সর্বত্র উসমানীয় শক্তির আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। তার দরবারে – পারস্যের কবি, আরব আলেম, ইউরোপীয় প্রকৌশলী, তুর্কি সেনাপতি, হিন্দি সুগন্ধি ও আতর প্রস্তুতকারক, পূর্ব এশিয়ার শিল্পী ও ক্যালিগ্রাফার সবাই উপস্থিত ছিলেন৷ উসমানীয় রাজদরবার তখন শুধু সামরিক শক্তিই না, বিলাসিতা, আতর, সিল্ক, কফি, শিল্প ও জ্ঞানের কেন্দ্রও ছিল। কিন্তু সুলতানের সবচেয়ে বিশেষ নজর থাকতো আতরের প্রতি এমনকি তিনি এটা নিয়ে এক্সপেরিমেন্টও চালাতেন৷
.
উসমানীয়রা একটা বিশাল সিল্ক রোড নিয়ন্ত্রণ করতেন, যেই রোড দিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গার রেয়ার সুগন্ধি উপাদান ইস্তানবুলে পৌঁছাত। পার্সিয়া, দিমাস্ক, মক্কা-মদীনা, কায়রো, কান্নৌজ এর অনেক সুগন্ধি উপাদান। ওরিয়েন্টালিস্টদের কিতাবাদী অনুসারে সুলতানের দরবারে ‘তুদলিয়া’ নামক এক পার্ফিউম মেকার ছিলেন যিনি ঘাস, হিন্দি গুলাব, হিন্দি চন্দন, আর কায়রোর এক বিশেষ অয়েল দিয়ে একটা হার্বাল স্মেলের আতর বানান এবং সুলতানকে ভেট করেন, তার এই আতর এতটাই পছন্দ হয় যে তিনি এটার ব্যাপারে বলেন “হাযা ইত্তারুল জান্নাত” এটা তো জান্নাতি আতর। কি ডট কানেক্ট করতে পারতেছেন?
.
এরপর সুলতান বায়েজিদের আমলে যখন তোপকাপি প্রাসাদ পূর্ণতা পায় তখন প্রাসাদের কোর্টের শান বাড়াতো এই আতরের ঘ্রাণ, এজন্য তোপকাপিকে সুগন্ধি ঘরও ডাকা হতো৷ কে জানে হয়তো এই সুগন্ধির মাঝেই নানান মাজালিস হতো আর বেজে উঠতো “উসকুদারা গাদিরিকান” এর সুর, যেই সুরের নকলে এখন ত্রিভূবনের প্রিয় মুহাম্মাদ গাওয়া হয়৷ কিন্তু পরবর্তীতে গুলাবের আর মেশকের আতরের কদর অনেক বেড়ে যাওয়ায় এই হার্বাল আতরের ঘ্রাণটা উসমানীয় দরবার থেকে হারিয়ে যায়, কিন্তু এক চৈনিক পর্যটক এর নোটস নিয়ে গিয়ে চায়নাতে একে জনপ্রিয় করে তোলে৷ তবে ৬০০ বছর পুরনো রেসিপির এই আতরকে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় করে তোলে Swiss Arabia কোম্পানি, তাও ১৯৭০ এর দশকে।
.
সুইস এরাবিয়া প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাত্র ২ বছর পর এমন এক জিনিস মার্কেটে আনে, যার ঘ্রাণ প্রাচীনতা আর আধুনিকতাকে এমনভাবে একত্রিত করে যেটা আগে অন্য কেউ আর পারেনি, যার ঘ্রাণ ম্লান হয়না কখনো, যার ঘ্রাণে আত্মার প্রশান্তি থাকে। তারা এর নামটাও দিলো একদম গালভরা “জান্নাতুল ফেরদৌস” ফেমাস আর হিট হয়ে গেলো এই জিনিস, এর রেসিপি কিন্তু সুইস এরাবিয়ান চায়না থেকেই পেয়েছিলো কিন্তু চাইনিজরা কোথায় পেয়েছিলো বলেন তো? জান্নাতুল ফেরদৌস এর নোটসে প্রথম দিকে ছিলো লাইম, পুদিনা, জেসমিন, লিলি, মেশক, আম্বার, ওকমস এবং ভেটিভার যা একে পিওর হার্বাল একটা স্মেল বানিয়েছিলো কিন্তু ২০০৮ সালে ওদের নিউ ব্যাচে ওদের নিউ ইন্ডিয়ান পার্ফিউমার যোগ করেন হোয়াইট ফ্লোরাল, রোজ, স্যাণ্ডাল এবং এখান থেকেই সুইস এরাবিয়ার ওজি স্মেলটা কিলড হয়ে যায়৷
.
তবে ওজি সিরিজটাকে ধরে রাখে আলেক্সেন্দ্রিয়ার একটা পার্ফিউম হাউজ, তারপর আলমাস পার্ফিউমারি। যাদের সুইস এরাবিয়ার স্মেল এখন সুইসের চেয়ে অনেক বেটার৷ লঞ্জিভিটিও বেশি, যদিও আমি সুইসের জান্নাতুল ফেরদৌস অনেক সেল করেছি এখনো করি, তবে অনেস্টলি বললে এরচেয়ে অনেক ভালো হাউজের প্রোডাক্ট আছে অলরেডি৷ ফেরদৌস বাই আহমাদ আল মাগরেবিই তো সেই সুন্দর। তবে অয়েলের মধ্যে মিশরের আলেক্সান্দ্রিয়ারটা জোস আর প্রাইজও হাতের নাগালে। কিন্তু জান্নাতুল ফেরদৌস ভাই লেজেন্ডারি জিনিস৷ একটা পিওর ৬০০ বছর পুরনো রেসিপি দেখেন কিভাবে এদেশ সেদেশ এ হাত সে হাত ঘুরে আবারো ফিরে এসেছে৷ যার ঘ্রাণের কদর ছিলো প্রতিটি যুগেই, এইযে দেখেন না কোনো পোস্ট দেইনি এর মনে হয় গত দেড় বছরে কিন্তু প্রায় ৪০০ গ্রাম প্রোডাক্ট সেল হয়েছে এবং আরো হবে ইনশাআল্লাহ, গরমের দিনে ব্যাপক আরাম জিনসটা ইউজ করে৷

Reference Books: The Fragrance Past, The Sultan, The Grand Turk,. Daily Life In The Ottoman Empire, Topkapi Palace, Ottoman Tulips, Scents and Flavours, The book of Perfumes

Info collected from: Reddit, Dort Scents, Claude

Copyright reserved by Scentara

0
    0
    Your Cart
    Your cart is emptyReturn to Shop
    Scroll to Top