টাকা কামানো-ই পরম লক্ষ্য অথচ…..
আমাদের দেশের মানুষ আসলে জানেই না যে ‘ব্যবসা’ জিনিসটা কি? এটা ফাংশন করে কিভাবে? তারা ভাবে কোনো একটা কিছু ট্রেণ্ডে চলছে যাই একটা পেইজ খুলি বা দোকান খুলি আর যা কিছু পুঁজিপাটা আছে নিয়ে ঝাপায় পড়ি, ব্যস! ইনকামই ইনকাম হবে। এটাকে কিন্তু ব্যবসা বলেনা এটা হচ্ছে সাময়িক কেনাবেঁচা, এই কেনাবেঁচা করতে এসে বহু মানুষ ধ্বংস হয়। যেমন জামশেদ মজুমদারের কথা ধরেন, ও লাফালাফি করুক আর যাই করুক ও কিন্তু ব্যবসা বুঝে, পার্সোনাল স্প্রিং এর বাইরে কথা বলতে গিয়ে বহুবার আক্রোশের শিকার হওয়ার পরেও সে জানে বিজনেসকে ফর্ম করতে হয় কিভাবে।
কিন্তু একই মডেলে অনেকে ব্যবসা রান করতে গিয়ে কিন্তু হিউজ মারা খেয়ে সর্বস্ব খুইয়েছে, করোনার টাইমে শুরু হওয়া ড্রাই ফুড বা এই টাইপের ব্যবসাগুলোর মধ্যে কয়টা টিকে আছে বলেন তো? কয়টা স্কেলিং পেয়েছে? কেউ কেউ কম্বো টম্বো দিয়ে মার্কেট নষ্ট করে এগিয়ে গেছে কিন্তু ঘরেরবাজার দেখেন আগের প্রাইজিং পজিশন ধরে রেখেছে, এতে কিন্তু তারা মার্কেট থেকে হারায় যায়নি কারণ তারা মার্কেটের ডাইভ বুঝে, মূল কথা ব্যবসা বুঝে। ধরেন ন্যাচারোও প্রিমিয়াম মার্কেটিং করে, কিন্তু ওদের ক্লাস জমে না। জামশেদ আর আলামিনের ব্লেইজ আলাদা, কিছুক্ষেত্রে ন্যাচারোর এডস বিরক্তিকর। কারণ স্মার্টনেস, কমিউনিকেশন এগুলো জন্মগত জিনিস। কেউ বাই বর্ণ স্কিলড আর কেউ স্কিলড হওয়ার ট্রাই করে। দুটো আলাদা বিষয়।
এবার আসেন পার্ফিউমে, বাংলাদেশের মেজর ডেমোগ্রাফির কিন্তু সুবাস নিয়ে বিশেষ আগ্রহ নেই, উলটো ম্যাক্সিমামই আমার দেখামতে ঘ্রাণ জিনিসটা খুব একটা পছন্দ করেনা, স্পেশালি সিনিয়র সিটিজেনরা। কিন্তু ঐ করোনার টাইমেই কম্বো, উমরাহ, বাইক হ্যানত্যান ক্যাম্পেইনিং করে অনেকেই মার্কেটে নেমেছিলেন যারা ম্যাক্সিমামই এখন হাওয়া, কারণ এসব ব্যবসা টিকেনা কিছু লিকুইডিটি নিয়ে গেছে কিন্তু স্কেলিং করতে পারেনি। কারণ আপনি কাস্টমারকে জোর করে কেনালে সেই কাস্টমার আর ব্যাক করবেনা কারণ সে ফাঁদে পড়ে কিনেছে ইচ্ছা করে কেনেনি, যে ইচ্ছা করে টাকা খরচ করবে সেই বারবার আসবে। তবে কেউ বারবার কখন আসবে? যখন দেখবে আপনি টাকা নিয়ে ভালো গুডস এবং সার্ভিস দিচ্ছেন। নাহলে মানুষের ঠ্যাকা কি আপনার কাছে আসার? আর এখানেই আসে সবচেয়ে বড় ফ্ল!
সেই ‘ফ্ল’ কি? ঐ যে বললাম, ব্যবসাই বুঝে না কেউ। কোনো এক্সপার্টিজ নেই কোনো জ্ঞান নেই, আছে প্যান্টের পকেট ভেজা কিছু টাকা আর বস্তাপঁচা সোর্স, তা দিয়েই ব্যবসায় নেমে যাওয়ার চেষ্টা এবং লোক ঠকানো, সেটা জেনে হোক বা অজান্তে। প্রথমত কথা হচ্ছে, এইদেশে যারা ব্যবসা করে তাদের কোনো লিগ্যাল অথোরিটি-ই তো নেই, আপনি যখন একটা ল্যাণ্ডে বিজনেস করছেন তখন আপনি সেই ল্যাণ্ডের নিয়ম কানুনের সাথে চুক্তিবদ্ধ, আপনার আইডিওলজি এখন ম্যাটার করেনা। কিন্তু এদেশে যারা ব্যবসা করে তাদের ৯০% এর ট্রেড লাইসেন্স-ই নেই, টিআইএন নেই, সোর্সিং লাইসেন্স নেই, পার্ফিউমের মতো স্কিন সেন্সিটিভ একটা জিনিসের কোনো টেস্ট বিডিং সার্টিফিকেশন লাগেনা। বাংলাদেশের মতো এসব দেশে তাই যে-সে ব্যবসায় নেমে যেতে পারে, যা-তা নিয়েই। ধরার কেউ নাই। আপনি যদি এমেরিকা বা আরব আমিরাতে শুধু ব্যবসা করার একটা স্বপ্নও দেখেন, তাহলে কি লেভেলের পেপারওয়ার্ক রেডি করতে হবে তা ভাবতে গেলেও ঘাম ছুটে যাবে।
আমার দাদা, বাপ আর চোদ্দগুষ্টি মোটামুটি ব্যবসায়ী, আমার বাবা অলোয়েজ বলেন যে, If you want to think for a business either, make sure your papers are ready, আমি উনার এই কথাটা মেনে চলি। কোনো প্যারা থাকেনা তখন মাথায়, আমার সোর্সিং অথোরাইজড আমার ডীলিং অথোরাইজড ইভেন এই কারণে আমার এক্সপার্টিজও অথোরাইজড, এই কিছুদিন আগেও আমার উকিল পেপার রিভিউ করার টাইমে বলছিলো আপনাদের মিলের চাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট বেশ এক্সপার্ট আমি বললাম ভাই আমাদের হিসেব নিকেশ ক্লিন তাই তার একাউন্টিংও ক্লিন৷ কিন্তু দেশের ম্যাক্সিমাম ব্যবসা স্পেশালি অনলাইন ব্যবসা পেপারলেস, এসব লুঙ্গি ঘাড়ে ওঠা মুখের রসওয়ালা লোকেদের কি লেভেলের মারা খাওয়ানো যাবে আপনি ভাবতে পারেন? কারণ একটাই তাদের ব্যবসার লিগ্যালিটি-ই নাই৷ এই যে মার্কেটের পুরো ইন্সপায়ার্ড বাজারটা যেই লেভেলের একটা স্ক্যামের উপর গড়াচ্ছে এর কারণ কি? কারণ একটাই তা হচ্ছে Every TikToker is in the air, এরা প্রত্যেকেই ভাসমান এদের কোনো গ্রাউণ্ড নেই। লায়াবিলিটি নেই৷ ধরা খেয়ে ভাগার চান্স ওপেন, শুধু শাটারটা ডাউন করে দিবে। ব্যস!
আর, ইন্সপায়ার্ড মার্কেটের সবচেয়ে বড় স্ক্যামার হচ্ছে ইউসুফ ভাই, কেন? কারণ “ঘ্রাণ শুঁকেই পার্ফিউম রেডি করা” টাইপের একটা আন-রিয়েলিস্টিক ফেইক মার্কেটিং উনি বাজারে এনেছিলেন, লোকটা ৫ বছর আগেও কোনোরকম একটা দোকান খুলে আতর বিক্রি করতো অথচ কিভাবে বুড়া বয়সে এমন ভয়ঙ্কর মার্কেটিং আইডিয়া আসলো কে জানে, এখন নন্দিত স্কলার বলে গেছেন উনি, যার কারণে অনেক ছাগল জন্ম নিয়েছে, যারা ভাবে অয়েল আর ইথানল মিশিয়ে দিলেই পার্ফিউম রেডি হয়ে যায়৷ অথচ এগুলা মোটেও পার্ফিউমারি না, আপনি যেকোন সার্টিফাইড পার্ফিউমারকে অ্যাপ্রোচ করে দেখুন, পার্ফিউম তৈরি করার একটাই ওয়ে আছে, তা হচ্ছে মেইক ইট ফ্রম দ্যি স্ক্র্যাচ৷ আপনি যখন অয়েল আর ইথানল মেশাচ্ছেন তখন একটা কন্সেন্ট্রেট্রড অয়েলকে আরো কন্টেন্ট্রেশন করছেন, সেটাকে আবার ফিক্স করার জন্য মেশাচ্ছেন ফিক্সেটিভ যা পুরো জিনিসটাকে আরো ইমব্যালেন্সন্ড করে ফেলছে। পার্ফিউম অয়েল জিনিসটা কি সেটাই পাব্লিক জানেনা, অথচ সেটা থেকে আবার পার্ফিউম স্প্রে বানাতে চায়।
পার্ফিউম জিনিসটা তৈরি হয় শুণ্য থেকে৷ ডাইলুটেড জিনিসকে আরো ডাইলুশন করার নাম কি পার্ফিউম মেকিং নাকি? একটা পার্ফিউমকে রেডি করার জন্য ৭৫-৮০ টা উপাদান নির্দিষ্ট রেশিওতে ব্লেণ্ড ও ম্যাচিওর করার দরকার পড়ে। মিডেল ইস্টার্ণ পার্ফিউমগুলো কম্পোনেন্ট মিড গ্রেডের ইউজ করলেও মেকিং কিন্তু স্ক্র্যাচ থেকেই করে তাই প্রজেকশন আর লাস্টিং এতো হাই তাদের, কিন্তু এখন পার্ফিউম মেকিং হয়ে গেছে রেডিমেড অয়েল আর প্রি-মিক্স মেশানো। এবং প্রায় প্রতিটা পেইজ এবং প্রতিটা শপই সেইম কাজ করছে৷ এজন্যই বললাম যে এদেশের মানুষ ব্যবসা এবং ব্যবসার লিগ্যালিটি দুটোর একটাও বোঝে না। তবে খেলা আরো অনেক বাকী আছে, এসব ইস্যুকে এভাবে ফেলে রাখলে সমস্যা কারণ পার্ফিউম স্কিন এবং ব্রেইনের উপর প্রভাবক। কিন্তু সবই তো আর অনলাইনে বলবো না, কিছু কাজ অফলাইনের বিগ পার্সনালিটিদের সাথে করতে হবে।
তবে কোনো ইনফ্লুয়েন্সার এখানে ইনক্লুড হবেনা কারণ তারা পার্ফিউমের কিছুই বুঝেনা, আপনারাও ইনফ্লুয়েন্সারদেরকে একটু মাথায় কম তুলুন, কারণ গতকালের মোরগ ফেইম পেলে ডায়নোসর হয়ে আপনাকেই পিষে দিবে, নিজেদের পার্সোনালিটি বিক্রি করে দিয়েন না৷। আর ডেপথ ওয়ার্কের ব্যাপারে কোথায় কি করা লাগবে তা মাশাআল্লাহ খুবই সমৃদ্ধভাবে গোছানো আছে। একটু টাইম লাগবে তবে যারা জেনে অথবা না জেনেই এই জায়গাটা নষ্ট করছে, তাদের কোয়েশ্চেনেবল করা হবে। কেউই শত্রু না আমাদের, তাই সবার উচিৎ নিজেদের ভুল শুধরে নেয়া নিজেকে আগে স্কিলড করে নেয়া, নিজেদের ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি উল্টা পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া বাঁধাতে আসে তাহলে গোড়ালি কেটে যাওয়ার চান্সই বেশি। কারণ আমার ব্যবসা দিয়ে কিচ্ছু আসে যায়না, আমি পার্ফিউম এন্থুসিয়াস্ট এবং কোর গ্রুপ গঠনে আগ্রহী, বেঁচাবিক্রির পরোয়া নেই। আরো অনেক কথা অনেক লিখা বাকী আছে। পড়তে থাকুন আর শিখতে থাকুন৷ এরচেয়েও বড় কথা হচ্ছে প্রশ্ন করা শিখুন, লামছাম বোঝালে পাব্লিকলি এক্সপোজ করুন। কারণ টাকা আপনার, স্বাস্থ্যও আপনার। দুটোকেই কম্প্রোমাইজ কেন করবেন?