.
একটা গল্প বললে ভালো বুঝবেন, ঘটনাটা হচ্ছে কোনো এক শুক্রবার অথবা কোনো এক শনিবারের, নামাজের পর পর বিয়ের একটা দাওয়াত তাও গ্রামের দিকে, শহুরে গ্রাম যাকে বলে। তো আমাদের পুরো বংশের মানুষ যাচ্ছে সেই বিয়েতে কারণ বাপ-চাচাদের ফার্স্ট কাজিনের মেয়ের বিয়ে৷ আমি গোসল সেরে পাঞ্জাবী কটি গায়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি যে মসজিদ আবার বিয়ের অনুষ্ঠান দুইটাতেই ফুটে উঠবে এমন কি সুগন্ধি আছে? তখনই সোনালি ক্যাপের পার্ফিউম অয়েলটা চকচক করে চোখে ধরা দিলেন, এবং এ আর কেউ না বরং শাহী অউদ৷
.
ঝাঝালো, মিষ্টি, অউদি আবার উচ্ছাসি এমন স্মেল কম্বিনেশন পাওয়া ঢের কঠিন৷ ভালোমতো জামায় মেখে নিলাম জিনিসটা এরপর রওনা দিলাম পকেটে পুরে গ্রামের উদ্দেশ্যে, মাইক্রোবাসে ইন্তেজাম ছিল তাই সেখানে ঢুকতেই বড় চাচাতো ভাই আওয়াজ দিলো, কিরে আজকে আবার এটা কি মাখসোস? কঠিন ঘ্রাণ পুরো গাড়ি গরম হয়ে গেছে, সম্মতি জানালো ড্রাইভারও, এরপর নামাজের জন্য অযু করতে নামলাম মসজিদ সংলগ্ন পুকুরে, আরো অনেকেই অযু করছে, গ্রামের এক মুরুব্বি এসে হাসি দিয়ে বললো আপনারতে একটা সুবাস আইতাছে খুব সুন্দর৷
.
মসজিদে আমার একপাশে দাঁড়ালো মেজ চাচা আরেকপাশে আমার এক ইংলিশ মিডিয়াম পড়ুয়া কাজিন ছোটভাই চাচা নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করলো ঘ্রাণের ব্যাপারে এটা নাকি এক রয়েল ঘ্রাণ এরপর ছোটভাই জানালো সে পার্ফিউমটা ইউজ করতে চায়, দিলাম একটুখানি ওর হাতে কিন্তু এতে খুশি না বেটাচ্ছেলে আরো লাগবে ওর একটু আশ্চর্যই হলাম কারণ এরা নরমালি ‘আতর’ জিনিসটার সাথে সেভাবে পরিচিত না, যদিও আমি আর ওকে বেশি দেইনি কারন পার্ফিউম কম৷ এরপর বিয়ের অনুষ্ঠানে খেতে বসে ফুফাতো ভাই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলো, কি ভাই কি পার্ফিউম এটা?
.
আর যে কত মানুষ জিজ্ঞাসা করেছে, কিন্তু ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ঘাড়ের রগ ফুলিয়ে চিল্লিয়ে বলতে পারি নাই এইটা শাহী অউদ, এইটার নাম শাহী অউদ, এইবার আমারে একটু আরাম করে রেজালা খাইতে দেএএএএ৷ ওয়েল গাড়ি, ভীড়, অনুষ্ঠান এবং আরো নানান ভেজাল সহ্য করেও আতরের ঘ্রাণট রাত অব্দি টিকে ছিলো, যদিও ১ দিন আরামেই চলে যায় কাপড়ে লঞ্জিভিটি। আর এর ঘ্রাণ আবার মলিন হয় কম, টাটকা ঘ্রাণ থাকে দীর্ঘক্ষণ৷ এই শাহী অউদ আর বিন শেখ এগুলো হচ্ছে রিয়েল রয়েল পার্ফিউম অয়েল, এটিটিউড বুস্টার জিনিস৷ এগুলোই কিনবেন বেশি করে৷




Reviews
There are no reviews yet.