আকাশে দুটো চাঁদ, নিচে অফুরন্ত বালির সমুদ্র, আর বাতাসে ভাসছে এমন এক মশলার ঘ্রাণ, যার জন্য গোটা মহাবিশ্বে যুদ্ধ বেঁধে যায়। ফ্র্যাঙ্ক হার্বার্টের Dune-এর আরাকিস গ্রহে “মেলাঞ্জ” নামের এক দুর্লভ মশলা পাওয়া যায়, যা ছাড়া নাকি মহাকাশযাত্রাই অসম্ভব। বইয়ে তার ঘ্রাণের বর্ণনা ছিল দারুচিনির মতো গরম আর তীব্র। একদিকে আছে সামন্ততান্ত্রিক রাজবংশের প্রাচীন রীতিনীতি, মরুবাসী ফ্রেমেনদের পুরনো আচার, অন্যদিকে নভোযান আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি। অতীত আর ভবিষ্যৎ এখানে এক সুতোয় বাঁধা। Mancera Red Tobacco যেন সেই মেলাঞ্জ মশলারই ঘ্রাণ, যা বোতলে ভরে পৃথিবীতে নামিয়ে আনা হয়েছে।
প্রথম ছোঁয়াতেই ঘ্রাণটা এসে নাকে জোরদার এক ধাক্কা দেয়। দারুচিনি, জাফরান আর জায়ফলের গরম, ঝাঁঝালো বিস্ফোরণ, সাথে ধূপের ধোঁয়াটে আভা আর উদের গাঢ় কাঠময় ছায়া। এই মশলার ঝাঁজের ভেতরেই আবার লুকিয়ে আছে সবুজ আপেল আর সাদা নাশপাতির হালকা, রসালো মিষ্টতা, যা প্রথমদিকের তীব্রতাকে অনেকটাই নরম করে আনে। স্মেলের ওপেনিংটা কিন্তু পুরোপুরি নাটকীয়। মনে হয় যেন নভোযানের দরজা খুলে প্রথমবার অচেনা কোনো গ্রহের বাতাসে পা রাখলেন, যে বাতাস একই সাথে অপরিচিত আর অদ্ভুত রকম আকর্ষণীয়।
কিছুক্ষণ পর মশলার প্রাথমিক ঝড় থিতিয়ে এলে ঘ্রাণটা অন্য এক মাত্রায় ঢোকে। হার্টে প্যাচুলির মাটির ঘ্রাণ আর জেসমিনের কোমল ফুলেল ছোঁয়া মিলে এক রহস্যময় মোড় নেয়। প্যাচুলি যেন আরাকিসের শুকনো মাটির গন্ধ ধরে রাখে, আর জেসমিন তার মাঝখানে হঠাৎ ফুটে ওঠা এক টুকরো সবুজ স্বপ্নের মতো। মশলার তেজ আর ফুলের কোমলতার এই অপ্রত্যাশিত মিলনটাই ঘ্রাণের আসল চমক। ঠিক যেমন Dune-এর গল্পে নিষ্ঠুর মরুভূমির বুকেও লুকিয়ে থাকে পানির প্রতিশ্রুতি।
বেইসে এসে ঘ্রাণটার আসল চরিত্র বোঝা যায়। তামাকপাতার শুকনো, ধোঁয়াটে মিষ্টতার সাথে মাদাগাস্কার ভ্যানিলার ক্রিমি উষ্ণতা মিলে তৈরি হয় ঘন, আসক্তিকর এক আবহ। এর নিচে অ্যাম্বারের মধুর মতো গভীরতা, গুয়াইয়াক উড আর চন্দনের ধোঁয়াটে কাঠময় ভিত, হাইতিয়ান ভেটিভারের মাটিময় সতেজতা, আর হোয়াইট মাস্কের নরম, ত্বকঘেঁষা ফিনিশ। এতগুলো স্তর একসাথে মিশে এমন এক জমাট, মখমলি মিষ্টি-ধোঁয়াটে ঘ্রাণ গড়ে তোলে, যা মিষ্টি হলেও হালকা নয়, আর গভীর হলেও কর্কশ নয়। প্রতিটি নোট নিজের জায়গা ধরে রাখে, অথচ সবাই মিলে একটাই মহাকাব্যিক সুর বাজায়।
পারফরম্যান্সে Red Tobacco নিজেই এক শক্তিশালী উপস্থিতি। প্রথম কয়েক ঘণ্টা প্রজেকশন বেশ জোরালো থাকে, ঘরে ঢুকলে মানুষ আগে ঘ্রাণটা টের পায় পরে ঘ্রাণ ছড়িয়ে দেয়া ব্যক্তিকে খুঁজে পায়। এর তামাক আর ভ্যানিলার মিষ্টি-উষ্ণ রেশ ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেকে যায়। ডিনার ডেট, পার্টি, বিয়ের অনুষ্ঠান কিংবা বন্ধুদের সাথে নাইট আউট, যেখানেই আপনি স্টাইলে আর সাহসে একসাথে মনে রাখার মতো ছাপ ফেলতে চান, সেখানে এটা দারুণ মানায়। এটা এমন ঘ্রাণ, যা আপনি চলে যাওয়ার পরেও ঘরের বাতাসে ভেসে থাকে, আর সবাই বুঝতে পারে, অন্য কোনো জগতের এক মশলা-সম্রাট এইমাত্র এখান দিয়ে হেঁটে গেছেন।



Reviews
There are no reviews yet.